পিরোজপুরের ১০ গ্রামে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন
শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬ ৭:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পিরোজপুর জেলার তিন উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালেই ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে প্রায় ৮০০ পরিবার উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে।
জানা গেছে, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও কাউখালী, মঠবাড়িয়া ও নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে। কাউখালীর শিয়ালকাঠী এলাকার মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদ, মঠবাড়িয়ার কচুবাড়িয়া গ্রামের হাজী ওয়াহেদ আলী হাওলাদার বাড়ি, নাজিরপুরের শেখমাটিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আল-আমিন মসজিদ এবং মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামের খন্দকার বাড়িতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া, কচুবাড়িয়া, সাপলেজা, ঝাটিবুনিয়া, খেতাছিড়া ও চকরগাছিয়া—এই ছয়টি গ্রামে প্রায় ৭০০ পরিবার ঈদ উদযাপন করছে। এছাড়া কাউখালীর বেতকা, শিয়ালকাঠী ও পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের ৭৫ থেকে ৮০টি পরিবার, নাজিরপুরের খেজুরতলা গ্রামের ৩৫টি পরিবার এবং সদর উপজেলার কদমতলা ও একপাই জুজখোলা গ্রামের প্রায় ৬০টি পরিবারও একই দিনে ঈদ পালন করছে।
ধর্মীয়ভাবে ভিন্ন এই চর্চার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার শুরেশ্বর গ্রামের হযরত মাওলানা আহমেদ আলী শুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা ও দুই ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চাঁদ দেখার ভিন্ন হিসাব ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার ভিত্তিতে তারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন। প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন তারা।
এদিকে, আগাম ঈদ উদযাপনকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন স্থানীয়রা।
১৩১ বার পড়া হয়েছে