সর্বশেষ

ফেবু লিখন

ঈদের ছুটিতেও যারা ছুটি পায় না

হাবীব চৌহান
হাবীব চৌহান

শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬ ৬:৩৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঈদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে—
শেকড়ে ফিরে যাওয়ার, আপনজনকে জড়িয়ে ধরার, দীর্ঘ ক্লান্তির পর একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার এক বিরল সুযোগ হয়ে।

কিন্তু এই আনন্দের ভিড়ে—
একটি শ্রেণি আছে, যারা কখনোই সত্যিকারের অর্থে ছুটি পায় না।
তারাই—বেতন, ভাতা ও সম্মানজনক সম্মানী বিহীন মফস্বল গণমাধ্যম কর্মী।

সম্প্রতি এমনই এক নিবেদিতপ্রাণ মফস্বল সাংবাদিকের ছোট্ট একটি ফেসবুক পোস্ট চোখে পড়ল।
তাঁর পোস্টটি সংক্ষিপ্ত, অথচ ভীষণ ভারী—
পত্রিকার ছুটি, কিন্তু প্রতিনিধির নয়!
বেতন নেই, ভাতা নেই, সম্মানজনক সম্মানীও নেই…
এই কয়েকটি বাক্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক বিশাল বাস্তবতা—
যা আমরা দেখি না, দেখতে চাই না, কিংবা দেখেও চুপ থাকি।

ঈদের ছুটিতে যখন শহরের অফিসগুলোতে তালা ঝুলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা, বোনাস পকেটে নিয়ে
পরিবারের টানে ছুটে যান গ্রামে—
ঠিক তখনও মফস্বলের সেই সাংবাদিক
নীরবে, নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যায়।
কারণ তার কাছে ছুটি মানে দায়িত্বের বিরতি নয়—
বরং আরও বেশি সতর্ক থাকা, আরও বেশি সজাগ থাকা।

পত্রিকা বন্ধ থাকতে পারে, কিন্তু সংবাদ থেমে থাকে না।
ঘটনা থামে না, অন্যায় থামে না, দুর্নীতি থামে না।
আর সেগুলোর বিরুদ্ধে কলম ধরার মানুষটিও তাই থামতে পারে না।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—
এই মানুষটির প্রাপ্য কোথায়?
যে মানুষটি সমাজের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ঘুষবাণিজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিদিন লড়াই করে,
যে মানুষটি ছাগল চুরি থেকে শুরু করে
রাষ্ট্রীয় পুকুর চুরি পর্যন্ত উন্মোচন করতে দ্বিধা করে না—
সেই মানুষটিই কি ঈদে
নিজের সন্তানের জন্য নতুন জামা কিনতে হিমশিম খাবে?

এ বিষয়ে আরেকজন গণমাধ্যম কর্মীর মন্তব্য যেন এই বেদনাকে আরও উন্মুক্ত করে দেয়—
আমরা বছরের পর বছর লোকসানের বোঝা কাঁধে নিয়ে এভাবেই ঈদ পালন করে আসছি।
বিনিময়ে মূল্যায়ন হিসেবে পাই শূন্য, আর ফাঁকা আশ্বাস পাই বড় বড়।

এই কথাগুলো শুধু অভিযোগ নয়— এগুলো এক ধরনের আর্তনাদ।
যা উচ্চারণ করা হয় খুব ধীরে, কিন্তু শোনা উচিত খুব গুরুত্বসহকারে।

আমরা প্রায়ই বলি—
গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ! কিন্তু সেই স্তম্ভের ভিত্তিটাই যদি দুর্বল থাকে, তাহলে পুরো কাঠামো কতটা শক্ত থাকবে?

মফস্বলের এই কর্মীরা শুধু সংবাদ সংগ্রহ করেন না—
তারা সমাজের প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠ হয়ে ওঠেন।
তারা নীরব মানুষের ভাষা, অবহেলিত বাস্তবতার আয়না।
তবুও— তাদের প্রাপ্য সম্মান, নিরাপত্তা, ন্যায্য পারিশ্রমিক— সবকিছুই থাকে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।

এটি কোনো ব্যক্তিগত বেদনা নয়, এটি একটি কাঠামোগত অবহেলা।
তাই এখন সময় এসেছে—
সরকার, গণমাধ্যম মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের
এই বাস্তবতার দিকে গভীরভাবে তাকানোর।

কারণ— এই মানুষগুলোর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা মানে, শুধু একজন সাংবাদিককে মূল্যায়ন করা নয়,
বরং পুরো সমাজকে সত্যের আলোয় রাখার পথকে শক্তিশালী করা।

আর ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে—
যখন এই নীরব যোদ্ধারাও মাথা উঁচু করে বলতে পারবে—
আজ সত্যিই আমাদেরও ঈদ।

হাবীব চৌহান, গণমাধ্যম কর্মী, কুমারখালী।

১৩৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
ফেবু লিখন নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন