শেরপুরে চলন্ত মাইক্রোবাসে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, নিহত ৩, আহত ৯
বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬ ৬:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় চলন্ত একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দগ্ধ হয়ে তিনজন নিহত এবং অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা কলেজ রোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঈদের আনন্দ নিয়ে ঘরে ফেরার পথে প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা হবে—এমন স্বপ্ন নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিলেন তারা। কিন্তু সেই পথেই নেমে এলো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বগুড়ার শেরপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা দিলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে প্রাণ হারান তিনজন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন।
নিহতরা হলেন—শিউলী বেগম (৪৮), তায়েবা খাতুন (৩৫) এবং মাইক্রোবাসের চালক রিন্টু (৪৭)। আহতদের মধ্যে রয়েছেন শিশু ফাতেমা (১০), শহিদুল (৪০), তৌছিব (৩০), তাসমিয়া (২০), হেলেনা (৬০), তারিকুল (৩৬), ফাতেমা (২), আরহাম (৭) ও হামিম (৩০)।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডারে উঠে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই গাড়িটিতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। বিকট শব্দের সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো গাড়িতে। মুহূর্তেই আগুনের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে ভেতরে থাকা যাত্রীরা বের হওয়ার সুযোগই পাননি।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত চারজনকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে আরও একজন মারা যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর শেরপুর স্টেশন অফিসার মো. বখতিয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, তবে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা দেয়। এরপর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে তা স্বাভাবিক করা হয়।
ঈদের আনন্দমুখর যাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকের মিছিলে। যেসব পরিবার অপেক্ষা করছিল প্রিয়জনের ফেরার, তাদের ঘরেই এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
১২৫ বার পড়া হয়েছে