ঈদুল ফিতরে পর্যটক বরণে প্রস্তুত রাঙামাটি
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ ৫:২১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটিতে আগত পর্যটকদের বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত পর্যটন জেলা রাঙামাটি। সংস্কার কাজ শেষ করে ধুয়ে-মুছে ঝকঝকে করা হয়েছে জেলার পর্যটন স্পটগুলো।
উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়, পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে বিস্তৃত কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝিরি-ঝর্ণা এবং চারদিকে সবুজের সমারোহ—প্রকৃতির এমন লীলাভূমি রাঙামাটি। এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসন্ন ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর এবং পরবর্তী পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে পর্যটক বরণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক থাকায় পর্যটক বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুরুতে ঈদ উপলক্ষে আবাসিক হোটেলগুলোতে বুকিং ভালো থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকে বুকিংয়ে ভাটা পড়েছে। জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কায় অনেকে ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত বা বাতিল করেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ঈদ মৌসুম ঘিরে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতির যেন শেষ নেই। পুরো রমজান মাসজুড়ে রাঙামাটির পর্যটন স্পট, রিসোর্ট, আবাসিক হোটেল-মোটেল, টুরিস্ট বোট ও রেস্টুরেন্টগুলো সংস্কার করে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে।
শহরের হোটেল-মোটেল মালিকরা জানান, আসন্ন ঈদের ছুটির জন্য অধিকাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে অনেক হোটেলে বিশেষ ছাড়ও ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন পরিচালিত মোটেলগুলোতেও আতিথেয়তায় আনা হয়েছে নতুনত্ব।
এদিকে সাজেক ভ্যালিতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পাহাড় ও মেঘের মিতালি উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের জন্য রিসোর্টগুলো আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় বসে মেঘ দেখার জন্য নতুন স্পটগুলো আরও আধুনিক করা হয়েছে।
টুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও টুরিস্ট পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। টুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশ রাঙামাটি জোনের উপপরিদর্শক ফখরুল ইসলাম জানান, প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে সাদা পোশাকে নজরদারির পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের হয়রানি রোধে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
রাঙামাটি পর্যটন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা জানান, রূপের রাণী খ্যাত রাঙামাটি এখন তার স্বাভাবিক সৌন্দর্যে সেজে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগ্রহী পর্যটকরা অনলাইন ও অফলাইনে বুকিং করতে পারবেন, পাশাপাশি প্রধান কার্যালয় থেকেও বুকিংয়ের সুযোগ রয়েছে।
এদিকে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক থাকায় এবার রাঙামাটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। রাঙামাটি টুরিস্ট বোট মালিক সমিতির নেতা রমজান আলী বলেন, প্রতি বছর ঈদ মৌসুমের আশায় টুরিস্ট বোটচালকসহ সংশ্লিষ্টরা অপেক্ষায় থাকেন। তবে বিভিন্ন দুর্যোগের কারণে বারবার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় এবার রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আসবে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ আবাসিক হোটেলের সিট বুকিং হয়ে গেছে।
আবাসিক হোটেল মালিকরা আরও জানান, পর্যটকদের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। অর্ধেকের বেশি বুকিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বুকিংয়ে কিছুটা ভাটা পড়েছে।
১২৮ বার পড়া হয়েছে