উদ্বোধনের অপেক্ষায় গোমাসেতু, দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ ৫:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উদ্বোধনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত ‘গোমা সেতু’।
প্রথমে ১৫ মার্চ উদ্বোধনের কথা থাকলেও চূড়ান্ত প্রস্তুতির কারণে তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ফলে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের স্বপ্নের এই সেতুটি।
বরিশাল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই সেতুটি প্রায় ৩৬০ মিটার দীর্ঘ এবং দুই লেনবিশিষ্ট। ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত সেতুর মাঝের দুটি স্প্যান স্টিল ট্রাস প্রযুক্তিতে তৈরি, যা সাধারণ স্প্যানের তুলনায় বেশি উঁচু।
২০১৭ সালে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। তবে নকশা পরিবর্তন এবং স্টিল ট্রাস স্প্যান সংযোজনের ফলে ২০২২ সালে সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের মে মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। তবে সেতুর উচ্চতা নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই বছর কাজ বন্ধ থাকে।
পরবর্তীতে একনেক সভায় সংশোধিত নকশা অনুমোদনের পর স্টিল ট্রাস প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধি করা হয় এবং নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়।
এতদিন বাকেরগঞ্জ, দুমকি ও পটুয়াখালীর লোহালিয়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষকে নদী পারাপারের জন্য ফেরি বা ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হতো। ফলে যাতায়াতে দীর্ঘ সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
সেতুটি চালু হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, গোমা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উদ্বোধনের খবরে নদীর দুই তীরের চরাদি ও দুধল ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাদের প্রত্যাশা, এই সেতু দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে