গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আগে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬ ৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধান সংস্কার ও সংশোধন করতে হবে।
আইনানুগ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই গণভোটের ফল বাস্তবায়ন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ অপশন থাকলেও মাঝপথে একটি আদেশের মাধ্যমে চারটি জটিল প্রশ্ন যুক্ত করা হয়। এসব প্রশ্ন পড়তে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন ছিল এবং প্রতিটি প্রশ্নের জন্য আলাদা ‘হ্যাঁ/না’ অপশনও ছিল না। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গণভোটের কিছু অংশ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না—এই মর্মে রুল জারি হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। বিচার বিভাগ এ বিষয়ে মতামত দিতে পারে, তবে সংসদকে এমন আইন করতে হবে যাতে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়ে বাতিল না হয়। তাই রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে আইন ও সংবিধান মেনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। তবে সেটি করতে হলে আগে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। এরপরই পরিষদের সদস্যরা শপথ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, কমিশনের দুটি প্রধান এখতিয়ার হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করা, যা সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত।
গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে জনগণের মতামত জানতেই গণভোট আয়োজন করা হয়েছিল। তবে ব্যালটে একাধিক প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও একটিমাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদে ইতোমধ্যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব আসতে পারে এবং ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে দীর্ঘ ছুটির কারণে সংসদের কার্যক্রমের সময়সূচি সীমিত হয়ে পড়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাজেট অধিবেশনেও প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন করে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধনী বিল উত্থাপন করা যেতে পারে। সেই বিল সংসদে আলোচনা ও পাসের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সরকার জনমতকে সম্মান করতে চায়, তবে তা অবশ্যই সাংবিধানিক ও আইনগত কাঠামোর মধ্যেই হতে হবে। রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে নয়, সংবিধান ও আইনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়।
এ সময় তিনি বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে এ বিষয়ে আলোচনা করে কখন সংবিধান সংশোধনের বিল আনা হবে সে বিষয়ে যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদকে রাজনৈতিক সমঝোতার একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে সরকার সম্মান করে এবং এর প্রতিটি শব্দ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সনদের বাইরে কোনো আরোপিত বা অবৈধ আদেশের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব কি না—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন।
শেষে তিনি বলেন, সংসদের আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হলে রাষ্ট্র পরিচালনা সেই সংবিধান অনুযায়ীই চলবে এবং ভবিষ্যতেও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশ এগিয়ে যাবে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে