মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ট্রাম্প
রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬ ৪:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলোচনায় থাকা মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তিনি আদৌ জীবিত কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তিনি বেঁচে আছেন কি না, আমি নিশ্চিত নই। এখন পর্যন্ত কেউ তাঁর উপস্থিতির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেখাতে পারেনি।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে তিনি খামেনির মৃত্যুর খবর শুনেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এটিকে ‘গুজব’ বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যদি তিনি জীবিত থাকেন, তাহলে নিজের দেশের স্বার্থে তাঁর সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে আত্মসমর্পণ করা।”
ইরানের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাকে সমর্থন করতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো নাম বলেননি। তবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যারা ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন।
সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, বর্তমানে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে তিনি প্রস্তুত নন। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত শর্তগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্প বলেন, “ইরান একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু এখনই আমি তা করতে চাই না। যেকোনো চুক্তিই হতে হবে অত্যন্ত শক্তিশালী।”
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাশিয়ার তেল খাতের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে সংকট পরিস্থিতি শেষ হলে এসব নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর করা হবে বলেও জানান তিনি।
ইরানবিরোধী সম্ভাব্য লড়াইয়ে ইউক্রেনের সহায়তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নাম উল্লেখ করে বলেন, “জেলেনস্কি শেষ ব্যক্তি, যার কাছ থেকে আমাদের সাহায্য প্রয়োজন।”
উল্লেখ্য, এর আগে রুশ ড্রোন মোকাবিলায় নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরানি ড্রোন প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য ইউক্রেন বিশেষজ্ঞ দল পাঠাচ্ছে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে