সালথার আটঘর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র দেড় বছর ধরে বন্ধ, বঞ্চিত ২১ হাজার মানুষ
শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬ ৮:০৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় এলাকার প্রায় ২১ হাজার মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, মা ও শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন অচল থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৩ সালে আটঘর ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। কিন্তু গত প্রায় ১৮ মাস ধরে সেখানে কোনো ডাক্তার, নার্স বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী না থাকায় কেন্দ্রটি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। ফলে চিকিৎসার জন্য ইউনিয়নের বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা ফরিদপুর শহরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, গরিব মানুষের পক্ষে দূরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া কঠিন। আগে গর্ভবতী নারীরা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত পরীক্ষা করাতে পারতেন, এখন সেই সুযোগ নেই। এতে তাদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
অপর বাসিন্দা সিরাজ শেক জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন থাকলেও সেখানে কোনো ডাক্তার বা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নেই। ফলে অসুস্থ হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ফরিদপুর শহরে যেতে হয়, এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যায়।
প্রসূতি নাসিমা খাতুন বলেন, নিয়মিত চেকআপ করাতে পারলে অনেক ঝুঁকি কমে যেত। কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এখন বাধ্য হয়ে দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
আটঘর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মো. মাহফুজ খান জানান, ইউনিয়নের প্রায় ২১ হাজার মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জনবল না থাকায় মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। আটঘর ইউনিয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ফরিদপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কাজী ফরুক আহমেদ বলেন, জেলায় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিদর্শিকার বড় ধরনের সংকট রয়েছে। বর্তমানে প্রতি ১০ জনের বিপরীতে মাত্র ২ জন কর্মী কাজ করছেন। তবে ইতোমধ্যে জনবল নিয়োগের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে এবং আশা করা হচ্ছে শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।
১২২ বার পড়া হয়েছে