আনন্দ রূপ নিলো বিষাদে! বিয়ের যাত্রা হলো শোকযাত্রা, বিয়ে বাড়ীতে চলছে কান্না
বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২৬ ৪:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
আজ বিয়ে হওয়া ছেলের পুত্রবধূকে নিয়ে খুলনার কয়রা থেকে রওনা হন বাবা মোংলা পৌর বিএনপির নেতা আব্দুর রাজ্জাক। আশা ছিল, ছেলে তার নববধূকে নিয়ে সুখের সংসার সাজাবেন এবং সেই মুহূর্তে আনন্দ উপভোগ করবেন বাবা-মাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
কিন্তু ভাগ্য যেন এক নির্মম হঠাৎ ঘটনার মাধ্যমে সব সুখ ধ্বংস করে দিল।
বৃহস্পতিবার মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিভে গেছে পুত্রবধূসহ পরিবারের ৮ জন এবং মোট ১৪ জনের জীবন। এই ঘটনায় মোংলার শেহালাবুনিয়া এলাকায় চলছে শোকের মাতম।
এলাকাবাসী রাজা মিয়া ও জোহরা বেগম জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে যাওয়া নৌবাহিনীর একটি বাস বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নতুন বর-কনে বহনকারী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসের সবাই মারা যান। তারা বলেন, “এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর কখনো কোনো পরিবারের সাথে না ঘটে। এভাবে পরিবারের মানুষ হারিয়ে আর যেন কেউ নিঃস্ব না হয়।”
নতুন বর-কনের গাড়ীবহরে না থাকায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান নিহত ছেলে সাব্বিরের মা। তবে তার চোখে শুধুই শূন্যতা। কান্নায় ভেঙ্গে বারবার অসুস্থ হয়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়ছেন।
নিহত কনে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) মামা আবু তাহের জানান, খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশায় আজ দুপুরে তার ভাগনির (মার্জিয়া) বিয়ে হয়।
মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেহালাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে বরযাত্রীদের মাইক্রোবাস রওনা হয়। রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মার্জিয়া, তার বোন লামিয়া ও নানী মারা যান। বরসহ মারা যান আরও ৮ জন।
মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক জানান, “মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে সাব্বিরের খুলনার কয়রা উপজেলায় বিয়ে হয়।
সে ছেলে-পুত্রবধূসহ মোংলায় বাড়িতে আসছিল। পথে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে–পুত্রবধূ, মেয়ে সহ ৮ জন এবং মাইক্রোবাসের চালক ও কনে পক্ষের লোক মিলিয়ে মোট ১৩ জন মারা যান।”
১৬৩ বার পড়া হয়েছে