সর্বশেষ

জাতীয়হট্টগোলের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ ও বিরোধী দলের ওয়াকআউট
আজ থেকে দেশে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ গ্রহণ করালেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার
কায়সার কামাল নির্বাচিত হলেন ডেপুটি স্পিকার
নতুন মন্ত্রী হলেন আহমেদ আযম খান, শপথ গ্রহণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু
সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য খন্দকার মোশাররফের নাম প্রস্তাব করলেন প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশনিষিদ্ধ কসমেটিকস ও নষ্ট মিষ্টি বিক্রি চুয়াডাঙ্গায় ৫ দোকানিকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
নরসিংদী পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: ১০ কেজির স্থলে মিলছে সাড়ে ৮–৯ কেজি
চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচার চক্রের ৫ সদস্য আটক, ৫ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ
বাগেরহাটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১
ফরিদপুরে ঢাকাগামী বাসে অভিযান, ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ কারবারি আটক
হিলিতে ভোক্তা প্রতারণা দমন অভিযান, ব্যবসায়ীদের জরিমানা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
টুঙ্গিপাড়ায় যৌতুকের অভিযোগে নববধূর মৃত্যুর ঘটনায় বিতর্কিত মিমাংসা
জ্বালানি তেলের নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম সমুদ্রসীমানায় নৌবাহিনী টহল
টাঙ্গাইলে দেশি পণ্যকে বিদেশি দেখিয়ে বিক্রি, প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ভিডিওটি মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত : ধুলাসার চেয়ারম্যান
সুন্দরবনের জলদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ওসমান গণি আটক
পদ্মায় ডুবে যাওয়া তেলের ট্যাংকার ১৬ ঘন্টা পর উদ্ধার
বরিশালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মবিরতি, নগরজুড়ে ময়লার স্তূপ
মির্জাপুরে তেলবাহী কাভার্ড ভ্যান উল্টে যানজট, ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহে এলাকাবাসী
কলাপাড়ায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে সালিসে কঠোর শাস্তি
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে জেলের নৌকায় আগুন, দেড় লাখ টাকার ক্ষতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে হেরোইন ও ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
রমজান উপলক্ষে শিবগঞ্জে অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
আন্তর্জাতিকযুদ্ধ বন্ধে তিন শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
আল–আকসা মসজিদে ১২ দিন ধরে মুসল্লিদের ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েল, ৮ দেশের নিন্দা
খেলাচ্যাম্পিয়নস লিগ অবিশ্বাস্য ভালভের্দে ‘বিশ্বের সবচেয়ে অবমূল্যায়িত ফুটবলার’
সারাদেশ

টুঙ্গিপাড়ায় যৌতুকের অভিযোগে নববধূর মৃত্যুর ঘটনায় বিতর্কিত মিমাংসা

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ
বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২৬ ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যৌতুকের দাবিতে নববধূ নুসরাত হোসেন সানজিদা ওরফে তন্নীকে (১৮) বিষ খাইয়ে মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও, তার বাবা জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে ৬ লাখ টাকায় মিমাংসা করার অভিযোগও সামনে এসেছে।

জানা গেছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় পাঁচ জন ব্যক্তি ও এক আইনজীবীর মাধ্যমে নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে লিখিতভাবে নববধূর শ্বশুর জাফর খানের সঙ্গে ৬ লাখ টাকায় হত্যার বিষয়টি মিমাংসা করেন তন্নীর পিতা জাহাঙ্গীর খান। বিষয়টি কয়েকদিন পর প্রকাশ্যে আসলে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতনের পর নুসরাত হোসেন সানজিদা ওরফে তন্নীকে (১৮) বিষ খাইয়ে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার রাতে তন্নীকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার চর-গোপালপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর খানের মেয়ে তন্নীর সঙ্গে একই গ্রামের জাফর খানের ছেলে আরিফুল খানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক মাস আগে রাতে আরিফুল তন্নীর সঙ্গে দেখা করতে আসলে স্থানীয়রা তাদের ধরে বিয়ে দেন। কিন্তু তারপরও আরিফুল তন্নীকে শ্বশুরবাড়ি নেননি।

এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি নিজের ইচ্ছায় তন্নী শ্বশুরবাড়ি যান। পরদিন বাবার বাড়ি ফিরে তন্নী জানায় যে শ্বশুরবাড়ির পাশে দুই বিঘা জমি লিখে দিতে হবে। ওই দিন শ্বশুরবাড়ি চলে যাওয়ার পর পরদিন তন্নীকে বিষ খাওয়ার অবস্থায় তার বাবার বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে দেয় স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তন্নী মারা গেলে তার বাবা জাহাঙ্গীর খান অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে ৪-৫ জন মিলে শারীরিক নির্যাতন করে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার কয়েকদিন পর তারাইল-চরগোপালপুর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর শিকদার, সোহেল শেখ, টুটুল শিকদার, পার্শ্ববর্তী কোটালীপাড়ার সোনাখালী সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ারসহ তন্নীর বাবা শ্বশুরের সঙ্গে ৬ লাখ টাকায় হত্যার বিষয়টি মিমাংসা করে নেন। পরে মৃত তন্নীর বাবা সেই টাকা ব্যাংকে জমা দেন।

মিমাংসায় উপস্থিত টুটুল শিকদার বলেন, “মৃত তন্নীর বাবা হঠাৎ এসে আমাকে ডেকেছিল। গোপালগঞ্জের এ্যাডভোকেট রবিউল আলমের কার্যালয়ে বসে হত্যার বিষয়টি ৬ লাখ টাকায় লিখিতভাবে আপোষ মিমাংসা হয়। শ্বশুর জাফর খানের কাছ থেকে নগদ ৬ লাখ টাকা নিয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকে জমা দেন। এতে আমার কোনো স্বার্থ নেই; এলাকার লোক হিসেবে ডাকায় গিয়েছিলাম।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী মন্তব্য করেছেন, “একটি হত্যার ঘটনা ৫-৬ লাখ টাকায় মিমাংসা করা যায় তাহলে দেশে আইনশৃঙ্খলা থাকবে কীভাবে! কেউ কাউকে হত্যা করে টাকা দিয়ে মিটিয়ে দেবে এবং দোষীরাও ঘুরে বেড়াবে।”

তন্নীর বাবা জাহাঙ্গীর খান মিমাংসার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “এলাকার অনেক লোক নানা কথা বলতেই পারে। কিন্তু এখনও কোনো মিমাংসা হয়নি। সাংবাদিকদের নাম্বার দিন, মিমাংসা হলে আমি যোগাযোগ করব।”

মৃত তন্নীর মা শরিফা বেগম বলেন, “আমার স্বামীকে নানা রকমভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাই তিনি ভয়ে মিমাংসা করতে চাইছেন। শুনেছি ৬ লাখ টাকার কথা হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা তিনি নিয়েছেন কি না, আমি জানি না। আমার মেয়ের জীবন সেই টাকায় ফিরে আসবে না। আমি চাই আমার মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার হোক।”

গোপালগঞ্জ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সভাপতি রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, “বাংলাদেশে আইনের চোখে টাকার বিনিময়ে হত্যা মামলার মিমাংসা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এমন ঘটনা সমাজে খারাপ প্রভাব ফেলে এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে। তাই হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে মিমাংসায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”

টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, “এই ঘটনায় টুঙ্গিপাড়া থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাইনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী হত্যার আলামত পাওয়া গেলে হত্যা মামলা হবে। তবে আইনত হত্যার মতো ঘটনায় মিমাংসার কোনো সুযোগ নেই।”

১১৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন