বরিশালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মবিরতি, নগরজুড়ে ময়লার স্তূপ
বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২৬ ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঈদের আগে বেতন ও বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রায় দুই হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
মঙ্গলবার থেকে তারা পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতির ঘোষণা দেন, যা বুধবার পর্যন্তও কোনো সমাধানে পৌঁছায়নি।
বুধবার (১১ মার্চ) শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির কারণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনা জমে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের বেতন পরিশোধ করা হলেও কোনো বোনাস দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, ঈদের বোনাসের পাশাপাশি ৩০ দিনের অগ্রিম বেতনও দিতে হবে। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী আব্দুল্লাহ বলেন, ৩০ দিন কাজ করলেও তারা বেতন পান মাত্র ২২ দিনের। গত বছর উৎসব ও ইফতার ভাতা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এবার প্রশাসনের সিদ্ধান্তে কোনো বোনাস দেওয়া হচ্ছে না। অথচ সিটি করপোরেশনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদ বোনাস পেলেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, মশকনিধন, ড্রেন পরিষ্কার ও রাস্তা পরিষ্কারের মতো কাজ তারাই করেন। এরপরও এবার বোনাস না পেলে ঈদের সময় কোনো কর্মী কাজে ফিরবেন না।
আরেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুমন খান বলেন, নিজেদের শরীরে দুর্গন্ধ মেখে তারা শহর পরিষ্কার রাখেন, কিন্তু উৎসবের সময় পরিবার নিয়ে আনন্দ করার মতো সামর্থ্য থাকে না তাদের।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী রোকেয়া পারভীন বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই বেতনে সংসার চালানোই কঠিন। এর মধ্যে যদি বোনাস না দেওয়া হয়, তাহলে সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক বা ঈদের কেনাকাটা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শ্রমিক নেতা মো. সোহাগ জানান, গত ৮ মার্চ থেকেই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, আগে এই দৈনিক মজুরিভিত্তিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন ছিল ১০ হাজার টাকা এবং তারা উৎসব ভাতাও পেতেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের মজুরি বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই শ্রমিকরা আর কোনো উৎসব ভাতা পাবেন না। আন্দোলনকারীদের বিষয়টি বারবার বুঝিয়ে বলা হলেও তারা আন্দোলন থেকে সরে আসছেন না। এতে নগরবাসী ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস না দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট পরিপত্র রয়েছে। তাই আন্দোলন হলেও তাদের বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই।
এদিকে টানা দুই দিন ধরে সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ পড়ে থাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। বরিশাল নগরীর মল্লিক রোড, আমানতগঞ্জ, বটতলা সহ অন্তত অর্ধশত স্থানে ময়লার স্তূপ জমে গেছে। দুর্গন্ধের কারণে নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
১২৮ বার পড়া হয়েছে