নোয়াখালীতে অটোরিকশা চালককে গলা কেটে হত্যা, ৩ দিনেও রহস্য উদঘাটন হয়নি
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অটোরিকশা চালক হোসেন আহমেদ ওরফে হেঞ্জু মিয়া হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (৯ মার্চ) রাতে এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে একই দিন বিকেল সোয়া ৩টার দিকে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গণিপুর খাল থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় গলাকাটা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত হেঞ্জু মিয়া জেলার সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খলিশালটা গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেঞ্জু মিয়া পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন। তিনি বেগমগঞ্জের চৌমুহনী কলেজ রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ৩ মার্চ বিকেলে তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। এরপর পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গত সোমবার দুপুরের দিকে বেগমগঞ্জ স্টেডিয়াম সংলগ্ন গণিপুর খালে একটি সন্দেহজনক বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ সময় ধরে বস্তাটি একই স্থানে পড়ে থাকায় সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাটি উদ্ধার করে খুলে দেখে ভেতরে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ রয়েছে। নিহতের হাত-পা প্লাস্টিক দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা ছিল।
পুলিশের ধারণা, ২ থেকে ৩ দিন আগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্য কোথাও তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যাতে হত্যার আলামত গোপন থাকে। তবে স্থানীয়দের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার দিন রাতেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামছুজ্জামান বলেন, “হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন রাতেই নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই সঙ্গে মঙ্গলবার দুপুরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
১২৮ বার পড়া হয়েছে