বরিশালে ভাঙনের ঝুঁকিতে মেহেন্দিগঞ্জর কয়েকশ' একর কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬ ৯:১৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশালের আন্দারমানিক ইউনিয়নে নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশই কৃষি ও মৎস্য চাষের ওপর নির্ভরশীল।
তবে নদীর প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ না থাকায় ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকশ একর কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি। এছাড়া জোয়ারের পানির কারণে তাদের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় উপজেলার কাজিরার থানা এলাকার আন্দারমানিক ইউনিয়নের একতার বাজার থেকে আলীখাঁর হাট পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন নদীতীরের বাসিন্দারা।
তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন ও জোয়ারের পানির সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছেন তারা। এ অবস্থায় কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে এ জনপদ। বিলীন হতে পারে কৃষিজমি ও বসতভিটা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দারমানিক ইউনিয়নের একতার বাজার থেকে আলীখাঁর হাট পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার নদীতীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নেই। বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগে পড়তে হয় আন্দারমানিক, আজিমপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষকে। নদীর স্রোত ও জোয়ারের পানির চাপে আশপাশের অন্তত পাঁচ-সাতটি গ্রাম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, নদীর পানির চাপে প্রতি বছর প্রায় ৪০০-৫০০ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি গ্রামে ঢুকে পড়লে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে যায়। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়েছেন।
একতার বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘বর্ষা এলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। নদীর পানি গ্রামে ঢুকে পড়ে, ফসল নষ্ট হয়। কোথাও কোথাও নদীভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।’
ভংগা গ্রামের আলীখাঁর হাট এলাকার কৃষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ সাত কিলোমিটার এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ নদীভাঙন ও জোয়ারের পানির হাত থেকে রক্ষা পাবে। কৃষিজমিও নিরাপদ থাকবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীর রক্ষায় মাঝে মধ্যে অস্থায়ীভাবে মাটি ফেলে বা বালির বস্তা দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়। তবে সেটা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান দেয় না। বরং বর্ষা মৌসুমে আবারো একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একতার বাজার থেকে আলীখাঁর হাট পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি জোয়ারের পানি প্রবেশও বন্ধ হবে। এতে রক্ষা পাবে বসতভিটা, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক।
আন্দারমানিক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান ও মেম্বর লিটন হাওলাদার জানান, এলাকাবাসীর দাবিটি যৌক্তিক এবং দীর্ঘদিনের। নদীভাঙন ও জোয়ারের পানির কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
১১০ বার পড়া হয়েছে