আইফোন ও টাকার লোভে কলেজছাত্র সিয়ামকে হত্যা, গ্রেফতার ২
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ ৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আইফোন মোবাইল ও নগদ টাকার লোভে সিয়াম মোল্যা (১৪) নামে এক কলেজছাত্রকে হত্যা করেছে তারই চার বন্ধু। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৯ মার্চ) রাত প্রায় ১১টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রাম এলাকার একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সিয়াম মোল্যা মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের ইতালি প্রবাসী লিখন মোল্যার ছেলে। তিনি মুকসুদপুর কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা হলো—ঝুটিগ্রামের শাহীন মিয়ার ছেলে দিদার মিয়া (১৪) এবং বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের টিটুল মুন্সীর ছেলে পারভেজ মুন্সী (১৫)।
মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ৭ মার্চ থেকে সিয়াম নিখোঁজ ছিল। সোমবার রাতে ঝুটিগ্রামের একটি পুকুর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কচুরিপানার নিচ থেকে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সিয়ামের কাছে একটি আইফোন ও নগদ টাকা ছিল। সেই ফোন বিক্রি করে এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মাদকের টাকা জোগাড় করতে তার চার বন্ধু হত্যার পরিকল্পনা করে। অভিযুক্তরা হলো—বাঁশবাড়িয়া এলাকার ইউপি সদস্য রিপনের ছেলে সাজিদ, টিটুল মুন্সীর ছেলে পারভেজ মুন্সী, রহমান মুন্সীর ছেলে অভি মুন্সী এবং ঝুটিগ্রামের শাহীন মিয়ার ছেলে দিদার মিয়া।
পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার (৭ মার্চ) সিয়ামকে হত্যা করে অভিযুক্তরা। পরে মরদেহ একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচে গুম করে রাখা হয়।
এ ঘটনায় দিদার মিয়া (১৪) ও পারভেজ মুন্সীকে (১৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি দুইজনকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সিয়ামের মা মারা গেছেন এবং তার বাবা ইতালিতে প্রবাসী হওয়ায় সে ঝুটিগ্রামে নানাবাড়িতে থাকত। মাদকের ভয়াবহতা মানুষকে কতটা অমানবিক করে তুলতে পারে, সিয়ামের এই হত্যাকাণ্ড তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। তুচ্ছ একটি মোবাইল ফোন ও নেশার টাকার জন্য বন্ধুর হাতে বন্ধুর হত্যার ঘটনায় পুরো মুকসুদপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
১৪৮ বার পড়া হয়েছে