নারীপ্রধান পরিবারে ভাতা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ ৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
সরকার জানিয়েছে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। ভাতার অর্থ উপকারভোগীদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে, ফলে তারা ঘরে বসেই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নেওয়া, সরকারি চাকরি বা পেনশন সুবিধা থাকা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেয়ে থাকেন, তবে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের চলমান ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।
এ ছাড়া কোনো পরিবারের সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হলে অথবা বেতন-ভাতা, অনুদান বা পেনশন পেলে ওই পরিবার এ ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবে না। একই সঙ্গে কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিলাসবহুল সম্পদ—যেমন গাড়ি, এসি—থাকা বা পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও তারা এই সুবিধা পাবে না।
সরকার বলছে, ভাতাভোগী নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলীয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে হতদরিদ্র পুরুষপ্রধান পরিবারকেও এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাতে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ কর্মসূচি সংক্রান্ত অভিযোগ বা অনিয়ম জানাতে শিগগিরই একটি হটলাইন চালু করা হবে। হটলাইন চালু না হওয়া পর্যন্ত সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিদ্যমান ‘চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮’-এ কল করে ফ্যামিলি কার্ড–সংক্রান্ত অভিযোগ জানানো যাবে।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে