রংপুরে পেট্রোল পাম্পে বিএসটিআইয়ের অভিযান, দুই স্টেশনকে জরিমানা
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ২:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি প্রতিরোধ এবং গ্রাহকদের সহজে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে রংপুর নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
অভিযানে অনিয়মের অভিযোগে দুইটি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারিমুল মওলার নেতৃত্বে বিএসটিআই রংপুর কার্যালয়ের একটি দল এ অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় শাপলা চত্বরের ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পটির চারটি মেশিনের মধ্যে দুটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মাত্র দুটি মেশিনের মাধ্যমে ধীরগতিতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখা এবং মজুদের সঠিক তথ্য দিতে না পারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয় সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে ফিলিং স্টেশনের মালিক আজিজুল ইসলাম জানান, কিছুক্ষণ আগেই পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ এসেছে, সে কারণেই দুটি মেশিন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
পরে শাপলা চত্বরের কাছেই রহমান ট্রেডার্স নামে আরেকটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি না করা এবং মজুদের কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ওই প্রতিষ্ঠানকেও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিএসটিআই পরিদর্শক নাছির উদ্দিন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় জ্বালানি তেল গ্রাহকদের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণের জন্য রংপুর নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাতটি পাম্প পরিদর্শন করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারিমুল মওলা বলেন, দুটি ফিলিং স্টেশনে অনিয়ম পাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে এবং শেষবারের মতো সতর্ক করা হয়েছে। গ্রাহকরা যাতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে পাম্প মালিকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার এবং প্রাইভেটকারে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকার জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। চালকদের অভিযোগ, মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যারা দূর-দূরান্তে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন তাদের জন্য এটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা অন্তত ৫০০ টাকার জ্বালানি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
১১৬ বার পড়া হয়েছে