রাজশাহী বিভাগে তেলের সংকট, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি
শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬ ৫:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহী বিভাগে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহের অভাবে ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ সারি দেখা দিয়েছে।
চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় অনেক স্টেশনে তেল শেষ হয়ে গেলে কিছু ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও হতে বাধ্য হয়েছে। যেসব পাম্পে তেল রয়েছে, সেখানে সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। গত তিন দিন ধরে এসব স্টেশনে তেল সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে হঠাৎ করেই তেল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
রাজশাহী নগরীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বৃহস্পতিবার থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো কোনো স্টেশনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং কোথাও ৫০০ টাকার বেশি তেল বিক্রি হয়নি। শুক্রবারও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। তেল পাওয়ার আশায় অনেককে একাধিক পাম্পে ঘুরতে দেখা গেছে।
নগরীর ভাটাপাড়ার বাসিন্দা বখতিয়ার শাহরিয়ার জানান, তিনি বৃহস্পতিবার রাতে তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে মাত্র এক হাজার টাকার পেট্রোল নিতে পেরেছেন। তার মধ্যে একটি স্টেশন থেকে ৫০০ টাকার এবং আরেকটি থেকে ৩০০ টাকার তেল পেয়েছেন। কোথাও চাহিদামতো তেল পাননি তিনি।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এলাকায় নয়ান ফিলিং স্টেশনে কথা হয় বাইকার সবুজ আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিদিনই বাইক ব্যবহার করতে হয়, তাই বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে ট্যাংকিতে তেল ভরার চেষ্টা করছেন।
রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তেলের সংকটের সঙ্গে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্কও যুক্ত হয়েছে। কেউ নিয়মিত বাইক ব্যবহার না করলেও অতিরিক্ত তেল কিনে রাখার চেষ্টা করছেন। যারা বেশি বাইক চালান, তারা একাধিক পাম্পে ঘুরে ট্যাংকি ভরে বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন। এর ফলে সংকট আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
তবে, পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
১৪৪ বার পড়া হয়েছে