সালথার পেঁয়াজ চাষিরা আর্থিক সংকটে, বাজারে দাম কমে লোকসান
শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬ ৫:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা এবার বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় যারা চাষ করেছিলেন, রমজানের ঠিক আগে বাজারে দরপতনে তাদের আশা ভেঙে গেছে। বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৯৫০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।
শুক্রবার সালথা উপজেলার বিভিন্ন পেঁয়াজ হাট সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। অনেক কৃষক নগদ টাকার তাগিদে বাধ্য হয়ে লোকসান মেনে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সালথায় প্রায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা জানান, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি ও সেচ খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। ফলে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি মণে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।
একজন চাষি জানান, “কীটনাশক, সার ও ওষুধের দাম অনেক বেশি। প্রতি মণে ১৫০০ টাকা খরচ করে এখন ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ন্যায্য দাম না পেলে ভবিষ্যতে চাষে আগ্রহ হারাবেন কৃষকরা। এতে দেশি উৎপাদন কমে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে।”
ব্যাপারীরা জানান, তারা প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫-২৬ টাকায় কিনছেন, যেখানে অনেক সময় কেজিতে ১-২ টাকা লোকসান হচ্ছে। তারা মনে করেন, মণপ্রতি দাম ১৫০০-১৬০০ টাকা থাকলে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়ই লাভবান হতেন।
সালথার নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, কাগদি, মাঝারদিয়া সহ বিভিন্ন হাটে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা আসলেও দাম বাড়ছে না। কৃষকেরা দাবি করছেন, ধান-গমের মতো পেঁয়াজেরও সরকারি সমর্থনমূল্য নির্ধারণ করা এবং প্রতিটি ইউনিয়নে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কোল্ডস্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণ করা উচিত।
সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সিকদার জানান, “বাজারে চাহিদা কম থাকায় দামও কম। অনেক কৃষক দেনা পরিশোধের চাপের কারণে কম দামে বিক্রি করছেন। তবে সম্ভব হলে কিছুদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। পরবর্তীতে চাহিদা বাড়লে তারা ভালো দাম পেতে পারেন।”
১৩৭ বার পড়া হয়েছে