রংপুরে পেট্রোল-অকটেন সংকট: গ্রাহকরা পাম্প থেকে ফিরে যাচ্ছেন
শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬ ৪:৩৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিভাগীয় নগরী রংপুরে বেশির ভাগ পেট্রোল পাম্পে অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ২০০ টাকার বেশি পেট্রোল একজন গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে না।
ফলে জ্বালানী তেলের অভাবে যে কোনো সময় পাম্পগুলো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকরা বিভিন্ন পাম্পে এসে তেল না পাওয়ায় ফিরে যাচ্ছেন। এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল থেকে রংপুরে অর্ধশতাধিক পেট্রোল পাম্পে অকটেন না থাকার কারণে নোটিশ টাঙানো হয়েছে। অন্যদিকে, পেট্রোল থাকলেও একজন গ্রাহক ২০০ টাকার বেশি তেল কিনতে পারছেন না। নগরীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, অনেকে মটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে এসে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, ইরান, আমেরিকা ও ইস্রায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রভাবকে কেন্দ্র করে পাম্পগুলো স্বেচ্ছায় বিক্রি সীমিত করছে। এছাড়া সন্ধ্যার পর পেট্রোল পাওয়া যাবে না বলেও খবর দেওয়া হচ্ছে।
অকটেন না থাকায় মটরসাইকেলসহ অকটেন নির্ভর যানবাহনের চলাচল যে কোনো সময় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নগরীর শাপলা চত্বরে অবস্থিত বৃহৎ শাপলা পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, দলে দলে মানুষ পেট্রোল ও অকটেন কিনতে আসছেন। বেশির ভাগ গ্রাহক মোটরসাইকেল চালক। পাম্পের কর্মচারী জয়নাল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে তাদের পাম্পে অকটেন নেই। পেট্রোল অল্প পরিমাণে থাকলেও শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। তাই প্রতিজন গ্রাহকের জন্য ২০০ টাকার পেট্রোলের বিক্রিতে সীমা রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সরকারি ছুটি থাকায় রবিবারের আগে ডিপো থেকে তেল আসবে না।
নগরীর মুন্সিপাড়া থেকে আসা গ্রাহক সালাম জানিয়েছেন, ২০০ টাকার পেট্রোল দিয়ে দুই দিনে তাদের মোটরসাইকেল চালানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে অকটেন কোন পাম্পে পাওয়া যাচ্ছে না।
সিও বাজার এলাকা থেকে আসা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অন্তত ১২টি পাম্প ঘুরে দেখেছেন, কিন্তু কোন পাম্পে অকটেন নেই। তিনি বলেন, অকটেন ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো কঠিন। এছাড়া ইরানের যুদ্ধের দোহাই দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে কিনা তা যাচাই করা উচিত।
নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়স্থ আজিজ পেট্রোল পাম্প এবং সালেক পেট্রোল পাম্পেও একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অকটেন নেই বলে নোটিশ টাঙানো হয়েছে। সেখানে ২০০ টাকার বেশি পেট্রোলও বিক্রি হচ্ছে না। সালেক পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার দুলু জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে ইরানের সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে গ্রাহকরা তেল কিনতে হুড়োহুড়ি করছেন। চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণে তেল থাকায় রেশনিং পদ্ধতিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, জ্বালানী তেলে কোন সংকট হবে না।
গ্রাহকরা এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চল থেকে ড্রামে করে পেট্রোল নিতে আসলেও পাম্পগুলো বিক্রি করছে না।
বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে খোলা পেট্রোল ও অকটেন কিনতে বড় বড় ড্রাম নিয়ে পাম্পে ভিড় করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা অভিযোগ করেছেন, কোন পাম্পেই তেল বিক্রি করা হচ্ছে না, ফলে তারা বিপাকে পড়েছেন। শ্যামপুরের খুচরা তেল ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, গ্রামাঞ্চলে প্রতি লিটার পেট্রোল ২ থেকে আড়াইশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদি পাম্পগুলো বিক্রি না করে, তাহলে সাধারণ গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়বেন।
১৪৫ বার পড়া হয়েছে