মানিকগঞ্জের শিবালয় ফিলিং স্টেশনে তেলের কৃত্রিম সংকট
বৃহস্পতিবার , ৫ মার্চ, ২০২৬ ৫:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি- বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনাকে পুঁজি করে এ সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ যানবাহন চালক ও পরিবহন মালিকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, শিবালয় উপজেলার উথলী–পাটুরিয়া–আরিচা সংযোগ সড়কের মোড়ে অবস্থিত সারমোনা ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, অকটেন ও গ্যাস সরবরাহ করা হলেও অনেক যানবাহনকে তেল না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ একই সময়ে কন্টেইনার ও ড্রামের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তেল পাম্পে আসার পরপরই মালিকপক্ষের কারসাজিতে তা খুচরা যানবাহনে না দিয়ে কন্টেইনার বা ড্রামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ গাড়ি চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী গাড়ির মালিক আবদুর রাজ্জাক বলেন, “গত পরশু রাতে এখানে তেল নিতে এসেছিলাম। পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিয়েছে। গতকালও একই অবস্থা ছিল, আজও তাই। অথচ দিনের বেলায় কন্টেইনারে তেল বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। বিষয়টি দেখেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
ঢাকা থেকে ফরিদপুরগামী একটি পরিবহনের চালক জুলহাস বলেন, “আমি নিয়মিত এই পাম্প থেকে তেল নিই। কিন্তু আজ রাত ৮টার দিকে এসে শুনি তেল নেই। অথচ আশপাশের অন্যান্য পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট দেখানো হচ্ছে।”
মোটরসাইকেল চালক হৃদয় বলেন, “সারাদেশে তেলের সংকট নেই। কিন্তু এই পাম্পে সব সময় তেল নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার গাড়িও ওই পাম্পে তেল না পেয়ে ফিরে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মরত বিকাশ সাহা। একইভাবে শিবালয় থানা পুলিশের একটি গাড়িকেও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সারমোনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আবু দাউদ বলেন, “আজ দুপুরে প্রায় ৯ হাজার লিটার ডিজেল এসেছে। কিন্তু চাহিদা অনেক বেশি। কন্টেইনার ও ড্রামেও মানুষ তেল নিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বিকেলের মধ্যেই ডিজেল শেষ হয়ে গেছে। অকটেনও দুপুরের পর থেকে শেষ। ডিপোতে গাড়ি গেছে, মধ্যরাত বা সকালে নতুন তেল আসার কথা।”
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। কেউ যদি কৃত্রিমভাবে তেলের সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাহলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
১০৫ বার পড়া হয়েছে