কচুয়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
বৃহস্পতিবার , ৫ মার্চ, ২০২৬ ২:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সাইনবোর্ড বাজার কমিটির অফিসে ডেকে নিয়ে অপু কর্মকার (৫২) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও বাজার কমিটির সহ-সম্পাদক মামুন শেখের বিরুদ্ধে।
পাশাপাশি ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ীর স্বর্ণের দোকানে বাজার কমিটির সিলযুক্ত তালা লাগিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে কচুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অপু কর্মকার।
অপু কর্মকার সাইনবোর্ড বাজারের রুপশ্রী জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী।
ক্ষতিগ্রস্ত অপু কর্মকার জানান, সাইনবোর্ড বাজারে প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি স্বর্ণের ব্যবসা করে আসছেন। বাজারে তার আরও তিনটি দোকান রয়েছে, যেগুলো ভাড়া দেওয়া আছে। তবে নির্বাচনের প্রায় ১০ দিন আগে মামুন শেখ নামের এক ব্যক্তি ওই তিন দোকানের ভাড়াটিয়াদের কাছে ভাড়া দাবি করেন। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলে তিনি কিছুদিন আর ভাড়া চাননি।
তিনি আরও বলেন, চলতি মাসে আবারও নতুন করে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মামুন শেখ তার ভাড়াটিয়াদের কাছে ভাড়া দাবি করেন। এ সময় তিনি ভাড়াটিয়াদের ভাড়া দিতে নিষেধ করেন। পরে মামুন লোক পাঠিয়ে তাকে বাজার কমিটির অফিসে ডেকে নেন।
অপু কর্মকারের অভিযোগ, অফিসে নেওয়ার পর তাকে ভাড়া দিতে নিষেধ করার কারণ জানতে চাওয়া হয় এবং ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেনের কাছে নালিশ করেছেন—এই অভিযোগ তুলে তাকে মারধর শুরু করেন মামুন শেখ। মারধর করতে করতে তাকে দোকানের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি দৌড়ে দোকানে ঢুকলে সেখানেও ঢুকে তাকে আবার মারধর করা হয় এবং দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “আমি এসব অন্যায়ের বিচার চাই।”
অপু কর্মকারের স্ত্রী অর্পিতা কর্মকার বলেন, তার স্বামী একজন নিরীহ ব্যবসায়ী। গায়ের জোরে তার দোকান থেকে ভাড়া আদায় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাড়া দিতে নিষেধ করায় তাকে মারধর করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন শেখ বলেন, অপু কর্মকারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বাজার কমিটির অফিসে ডাকা হয়েছিল। কথা বলার সময় তাকে দু-একটি ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, তবে মারধর করা হয়নি।
মারধর ও দোকানে তালা দেওয়ার বিষয়ে সাইনবোর্ড বাজার কমিটির সভাপতি এবং রাড়িপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরদার রেজাউল হোসেন চল বলেন, মামুন শেখ কোনো ব্যবসায়ীকে মারধর বা দোকানে তালা দিতে পারেন না। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় জরুরি সভা ডাকা হয়েছে এবং সেখানে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপি নেতা মামুন শেখের বিরুদ্ধে সরকারি খাল দখল, চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রাখাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
১০৫ বার পড়া হয়েছে