চুয়াডাঙ্গায় রমজানে সবজির দাম কমলেও ফলের দাম বাড়ছে
বৃহস্পতিবার , ৫ মার্চ, ২০২৬ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে চুয়াডাঙ্গার কাঁচাবাজারে লক্ষ্য করা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার ও নিচের বাজারে সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
কোনো কোনো সবজির দাম অর্ধেকে নেমে আসায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পবিত্র মাহে রমজানের শুরুর দিকেও যেসব সবজির দাম ছিল আকাশছোঁয়া, তা এখন ক্রেতা সাধারণের নাগালের মধ্যে।
তবে এর ঠিক উল্টো চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে ফলের বাজারে। সেখানে রমজানের দোহাই দিয়ে চড়া দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দেশীয় ফলের পাশাপাশি বিভিন্ন ফল বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশিতে। বিক্রেতারা বলছেন, রমজান উপলক্ষে ফলের চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম উঠানামা করছে।
সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গার বড়বাজার ও নিচের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের শীতকালীন ও বারোমাসি সবজির দাম কমেছে। খুচরা ও পাইকারি উভয় বাজারে সরবরাহের আধিক্য ও ক্রেতাদের চাহিদা কমায় এই দাম কমার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রমজানের শুরুতে যেখানে লেবু বিক্রি হচ্ছিল ৬০ টাকা হালি এবং শসা ছিল ১২০ টাকা কেজি, সেখানে বর্তমানে লেবু ৪০ টাকা হালি এবং শসা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ ৩০ টাকা, রসুন ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭০ টাকা, আদা ১৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, নালতে সজনে ডাটা ৪০০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, শিম ২০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা, কাঁচকলা ২০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, ফুলকপি ২০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, লাল গুটি আলু ২৫ টাকা, পালং শাক ৫ টাকা, করলা ১০০ টাকা ও আলু ১২ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। যার কিছু কিছু সবজির দাম রমজানের শুরুতেও ছিল দ্বিগুনেরও বেশি।
অন্যদিকে ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, আপেল ৩৫০ টাকা, আঙ্গুর ৪০০ টাকা, কমলা ৩৩০ টাকা, আনারস ৬০ টাকা, তরমুজ ২০০ থেকে ৪০০ টাকা ও পেয়ারা ১০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এসব ফলের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
এ বিষয়ে কাঁচামাল আড়ৎদার মাহাতাব উদ্দিন ডিউক বলেন, রমজান মাসের শুরুর দিকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া ছিল। কিন্তু এখন বাজারে প্রচুর সবজি আসছে, ফলে দাম আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাছাড়া রমজানের শুরুর দিকে ক্রেতাদের অধিক চাপ থাকায় প্রতিটা সবজির দামই কিছুটা বেশি ছিল। বর্তমানে সেই চাপটা আমরা সামলে উঠেছি এবং এখন ক্রেতাদের চাহিদাও কম। যার কারণে সবজির দাম অনেকটাই কমেছে। কিছু কিছু সবজির দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। ক্রেতারা এখন পছন্দমতো কেনাকাটা করতে পারছেন। আমরাও স্বাচ্ছন্দের সহিত ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সবজি বিক্রি করতে পারছি।
সবজি বাজার করতে আসা ক্রেতা শিপন আহমেদ বলেন, রমজান মাসের শুরুর দিকে বাজার করেছিলাম তখন প্রতিটা সবজির দাম ছিল বেশি। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। তবে লেবুর দামটা বরাবরই বেশি। রমজান উপলক্ষে প্রায় প্রতিটি পরিবারই ইফতারিতে লেবু রাখেন। তাই হয়তো লেবুর দামটি কমছে না, তবে অন্যান্য সবজির দাম বেশ হাতের নাগালের মধ্যে এসেছে। সবজির দাম এমন স্থিতিশীল থাকলেই সাধারণরা স্বাচ্ছন্দে সবজি ক্রয় করতে পারবে।
সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও ফলের বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ আপেল, আঙুর, কমলা ও মাল্টার দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ফল বিক্রেতা রিয়াজ উদ্দিন জানান, দেশি ফলের পাশাপাশি আমদানিকৃত কমলা, আঙুর ও আপেলের দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে। রমজান মাস উপলক্ষে ফলের বাড়তি চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে পাইকারি বাজার থেকেই দাম বাড়িয়ে রাখা হয়েছে। পুরো রমজান মাসটাই ফলের দাম এরকমই স্থিতিশীল থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা সবজির দাম কমায় খুশি হলেও ফলের বাজারের অস্থিরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রমজান মাসে ইফতারের জন্য ফলের প্রয়োজনীয়তা বেশি থাকে, আর এই সুযোগটাই নিচ্ছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি থাকলে ফলের দামও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
১২০ বার পড়া হয়েছে