চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী আসনে লড়াই শুরু, প্রার্থীদের তালিকায় ৭ নেত্রী
বৃহস্পতিবার , ৫ মার্চ, ২০২৬ ৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা গঠনের পর সকলের নজর এখন সংরক্ষিত নারী আসনের দিকে।
এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেত্রীদের মধ্যে তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরব হয়েছেন। কেউ কেউ কেন্দ্রে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন, আবার কেউ দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতি দেখাচ্ছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্য দলের হাইকমান্ডের উপর নির্ভর করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন নেত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
মাসউদা আফরোজ হক শুচি – জেলা মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক। বিগত আন্দোলনে সক্রিয় থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত মুখ। শুচি বলেন, “দল আমাকে দায়িত্ব দিলে নারী ক্ষমায়ন, আইন শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ চালিয়ে যেতে চাই। বিগত নির্বাচনে আমি দলের পক্ষে কাজের কারণে নির্যাতিত হয়েছি।”
সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া – বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের সহধর্মীনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, “যে কে দল যোগ্য মনে করবে, তিনিই মনোনয়ন পাবেন। আমি তো সাবেক সংসদ সদস্য।”
নাদিরা চৌধুরী – জেলা মহিলাদলের সহ সভাপতি। তিনি আন্দোলন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। নাদিরা বলেন, “এ জেলার মানুষ আমাকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান। এমপি হলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবো।”
ফরিদা পারভিন মেঘলা – জেলা বিএনপির সদস্য ও শিবগঞ্জ পৌর নির্বাচনের প্রার্থী। তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ও দলের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চান।
সায়েমা খাতুন – শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের দুইবারের ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা মহিলাদলের সভাপতি। তিনি বলেছেন, “সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হলে দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবো। নারী ক্ষমায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে কাজ করবো।”
শাহানাজ খাতুন – জেলা মহিলাদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
দিলসাদ তাহমিনা বেগম মিমি – জেলা মহিলাদলের সিনিয়র সহ সভাপতি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য, সাংগঠনিক ভূমিকা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলীয় ত্যাগ—এসব বিষয়ই মনোনয়ন প্রাপ্তিতে প্রভাব ফেলবে। তবে তৃণমূল নেত্রীদের দাবি, বিগত ১৭ বছরে যারা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত দলের মূল্যায়ন পাবেন।
জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়ায় সংরক্ষিত আসনেও বিএনপির প্রাধান্য থাকবে। দ্বিতীয় অবস্থানে জামায়াত এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
১০৪ বার পড়া হয়েছে