সর্বশেষ

জাতীয়ঈদযাত্রা শুরু: অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে ভিড়, ভাড়া বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা
ঈদযাত্রায় সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে তীব্র যানজটের শঙ্কা
কানাডার ‘বেগমপাড়ায়’ ঢাকা ওয়াসার এমডির পরিবারের বাড়ি নিয়ে প্রশ্ন
সারাদেশবাগেরহাটে বার্ড ফ্লুর আশঙ্কা: ৮ হাজার মুরগির মৃত্যু, ঋণের চাপে খামারি পরিবার বিপর্যস্ত
আন্তর্জাতিকমাশহাদে দাফন করা হবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে
ইরানে সহিংসতায় ১১০০ বেসামরিক নিহত: এইচআরএএনএ
ইরানের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতারা আর জীবিত নেই: ট্রাম্পের দাবি
খেলাটি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা না নিউজিল্যান্ড, ইডেনে আজ হাসবে কারা
জাতীয়

কানাডার ‘বেগমপাড়ায়’ ঢাকা ওয়াসার এমডির পরিবারের বাড়ি নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ ৫:১৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীর পরিবারের নামে কানাডায় একটি বাড়ির মালিকানার তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয় ভূমি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ সার্ভিস অন্টারিওর নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ কানাডার টরন্টো শহরে একটি বাড়ি কেনা হয় আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তাঁর স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে। পরবর্তী সময়ে মালিকানায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়।

নথি বলছে, ২০২৩ সালে বাড়িটির মালিকানার অংশ থেকে আব্দুস সালামের নাম বাদ দিয়ে তাঁর এক ছেলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে পুরো মালিকানা স্থানান্তর করা হয় তাঁর স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি টাকা। কেনার সময় লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২ কোটি টাকা। বাড়িটি সিও বুইয়ং ও ইনসান ইয়াম নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে কেনা হয়।

বিষয়টি নিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আব্দুস সালাম ব্যাপারীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাড়িটি তাঁর সন্তানেরা কিনেছেন। সন্তানেরা কী করেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁরা সবাই পেশাজীবী। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে মামলা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

পরবর্তীতে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দীর্ঘ সময় বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে কথা বললেও বাড়ি কেনা, অর্থের উৎস কিংবা সরকারকে অবহিত করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো জবাব দেননি। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য আমি প্রস্তুত নই।’

সরকারি চাকরিজীবীদের আচরণবিধি অনুযায়ী, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মতো স্থাবর সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে অনুমোদন নেওয়ার বিধান রয়েছে। সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও সরকারি চাকরি আইনের বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার নামে বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে সম্পদ অর্জিত হলেও তা জানানো এবং অর্থের উৎস উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।

ঢাকা ওয়াসা সূত্রের দাবি, দুই ছেলের আয়ে ২০১৮ সালে বাড়ি কেনা সম্ভব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সালামের স্ত্রী মাহবুবুন্নেছা ২০০৮ সালের দিকে দুই ছেলেকে নিয়ে কানাডায় যান। তিনি নিজেও ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে দেশে না ফেরায় তিনি চাকরিতে পুনরায় যোগ দিতে পারেননি।

দুই ছেলের লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, বড় ছেলে ২০১৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু থেকে এবং ছোট ছেলে ২০২১ সালে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতার কথাও তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

গত বছরের ১১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আব্দুস সালাম ব্যাপারীকে তিন বছরের জন্য ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিকবার শর্ত সংশোধন করা হয় এবং তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে যোগ্য করা হয়। সাক্ষাৎকার ছাড়াই তিনজনের তালিকায় তাঁর নাম শীর্ষে রেখে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

তখন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগের দিন তিনি পদত্যাগ করেন।

নতুন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিষয়ে তাঁর কাছে এখনো বিস্তারিত তথ্য নেই। তিনি বলেন, “খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত বলা যাবে।”

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে এ ধরনের সম্পদ অর্জন অস্বাভাবিক মনে হতে পারে এবং অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। প্রয়োজনে তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, অতীতেও ঢাকা ওয়াসার শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন এমডি তাকসিম এ খান–এর বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিদেশে সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে অর্থের উৎস, আইনগত অনুমোদন ও নৈতিক দায়—সবকিছুই স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের জবাব মিলতে পারে।

১০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন