ঈদযাত্রা শুরু: অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে ভিড়, ভাড়া বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ ৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ট্রেন ও দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
তবে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিন থেকেই রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন কাউন্টারে যাত্রীদের উপস্থিতি বেড়েছে। যদিও অনেক যাত্রী অনলাইনে টিকিট সংগ্রহে ঝুঁকছেন, তবু সরাসরি কাউন্টারেও ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, এখনও চাপ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে ১৫ রমজানের পর যাত্রীচাপ আরও বাড়বে বলে তারা ধারণা করছেন।
বাস কোম্পানিগুলো ১২ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত যেকোনো দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে। কাউন্টার ও অনলাইন—দুই মাধ্যমেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পছন্দের বাস, সময় ও আসন নির্বাচন করে সহজেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, এবারও সব অগ্রিম টিকিট শতভাগ অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। সার্ভারের ওপর চাপ কমাতে অঞ্চলভিত্তিক আলাদা সময়ে টিকিট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের টিকিট দুপুর ২টা থেকে ছাড়া হচ্ছে।
প্রথম দিন বিক্রি হয়েছে ১৩ মার্চের যাত্রার টিকিট। পর্যায়ক্রমে ৪ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত যথাক্রমে ১৪ থেকে ১৯ মার্চের যাত্রার টিকিট ছাড়া হবে। ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ থেকে, যা চলবে ১৯ মার্চ পর্যন্ত। সে অনুযায়ী ২৩ থেকে ২৯ মার্চের যাত্রার টিকিট ধাপে ধাপে উন্মুক্ত করা হবে।
রেলওয়ে আরও জানায়, ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল থাকবে। অনলাইনে টিকিট না পাওয়া যাত্রীদের সুবিধার্থে যাত্রার দিন স্টেশন কাউন্টার থেকে মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হবে।
সড়ক ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিষয়টি কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে এবং অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, লঞ্চে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট কবে থেকে বিক্রি শুরু হবে, সে বিষয়ে বুধবার সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন। একই সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালুর বিষয়েও এদিন তথ্য জানানো হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, মেট্রোরেলসহ দেশের সব ধরনের রেলসেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে টিকিট কাটার সময় বিশেষ অপশন রাখা হবে। প্রবীণ নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধীদের সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ সুবিধার আওতায় থাকবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
১০৫ বার পড়া হয়েছে