বাগেরহাটে বার্ড ফ্লুর আশঙ্কা: ৮ হাজার মুরগির মৃত্যু, ঋণের চাপে খামারি পরিবার বিপর্যস্ত
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ ৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাগেরহাট সদর উপজেলার চাপাতলা গ্রামে একটি বেসরকারি পোল্ট্রি খামারে ব্যাপক হারে মুরগি মৃত্যুর ঘটনায় চরম সংকটে পড়েছেন খামারি সোহাগ শেখ। খামারির দাবি, গত তিন মাসে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে তার খামারের প্রায় ৮ হাজার ডিমপাড়া লেয়ার মুরগি মারা গেছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, খাঁচার পর খাঁচা ভর্তি অসুস্থ মুরগি ঝিমিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পরপরই মারা পড়ছে মুরগি। কর্মচারীরা মৃত মুরগিগুলো বস্তাবন্দি করে সরিয়ে নিচ্ছেন। পুরো খামারজুড়ে নেমে এসেছে নীরবতা ও উৎকণ্ঠা।
প্রায় ২০ বছর আগে নিজ বাড়িতে এক হাজার মুরগি দিয়ে ‘সোহাগ এগ্রোফার্ম’ নামে খামার কার্যক্রম শুরু করেন সোহাগ শেখ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খামারের পরিসর বাড়ান তিনি। বর্তমানে খামারে ১০ থেকে ১২ জন কর্মচারী কাজ করেন। খামারটিকে কেন্দ্র করেই তার পরিবারসহ বেশ কয়েকজনের জীবিকা নির্বাহ হতো।
খামারি সোহাগ শেখ জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে হঠাৎ করে মুরগি মারা শুরু করে। প্রথমে সাধারণ রোগ ভেবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও মৃত্যুহার থামেনি। ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মুরগি মারা গেছে। বর্তমানে খামারে প্রায় তিন হাজার মুরগি অবশিষ্ট থাকলেও সেগুলোর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
তিনি বলেন, “ডিম দেওয়ার উপযুক্ত বড় বড় মুরগিগুলো মারা যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। অসুস্থ মুরগি কেউ কিনতে চায় না। খাদ্য ও উপকরণ কিনতে বিভিন্ন জায়গা থেকে বাকিতে নিতে হয়েছে, পাশাপাশি ঋণও করেছি। এখন পাওনাদারের চাপ বাড়ছে। দুই মাস ধরে কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছি না।”
এ ঘটনায় খামারটি পুনরায় সচল করতে সরকারি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ কুমার দাস বলেন, খামারে মুরগি মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় করা যাবে। তবে এ মুহূর্তে ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সহায়তা বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
স্থানীয়ভাবে এ ঘটনায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
১১১ বার পড়া হয়েছে