পাবনায় দোল-পূর্ণিমায় ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আবির্ভাব বর্ষ স্মরণ মহোৎসব শুরু
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ ৪:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পাবনায় পুণ্য দোল-পূর্ণিমা তিথি উপলক্ষে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র-এর ১৩৮তম শুভ আবির্ভাব বর্ষ স্মরণে তিনদিনব্যাপী মহোৎসব শুরু হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভক্তদের মিলনমেলায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পাবনার হিমাইতপুর আশ্রম প্রাঙ্গণ।
মহোৎসবের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঊষালগ্নে মাঙ্গলিকী ও প্রভাতে সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ-এর দোলযাত্রা উপলক্ষে আবির লেখায় মেতে ওঠেন উৎসবে অংশ নেওয়া ভক্তরা।
এর আগে সোমবার (২ মার্চ) পাবনার হিমাইতপুরে আশ্রম প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনদিনব্যাপী উৎসবের সূচনা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও বগুড়া অঞ্চলের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিৎ সাহা। এ সময় আয়োজিত আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চিকিৎসক অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ডা. সরওয়ার জাহান ফয়েজ।
সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও প্রতি ঋত্বিক প্রাণশঙ্কর দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ধর্মালোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও প্রতি ঋত্বিক সৌমিত্র মজুমদার পলাশ।
দ্বিতীয় দিনের সন্ধ্যাকালীন আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী রমেশ দত্ত, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) সুধাংশু কুমার সরকার এবং পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক আঁখিনূর ইসলাম রেমন।
আয়োজক সূত্র ও প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, তিনদিনব্যাপী এই মহোৎসবে ধর্মসভার পাশাপাশি রয়েছে ঊষালগ্নে মাঙ্গলিকী, তারকব্রহ্ম নাম সংকীর্তন, সকাল-সন্ধ্যা বিরতিহীন নাম-ধ্যান, প্রভাত ও সন্ধ্যায় সমবেত প্রার্থনা, সদ্গ্রন্থাদি পাঠ, ভক্তি সংগীত, শুভ অধিবাস, বিশ্বকল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা, পুরুষোত্তমের শুভ সপ্তত্রিংশতী-উত্তর শততম জন্মলগ্নের স্মৃতিচারণ, পুরুষোত্তমের দিব্য তনু স্মরণে ৮১ বার পুষ্পাঞ্জলি, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, শঙ্খধ্বনি, পুরুষোত্তম প্রণাম ও অর্ঘ্যাঞ্জলি নিবেদন, জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও মাতৃবন্দনা সহযোগে সৎসঙ্গ পতাকা উত্তোলন, পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ-এর দোলযাত্রা, লীলাকীর্ত্তন, শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু-এর ৫৪১তম আবির্ভাব পূণ্যলগ্নের স্মৃতিচারণ, শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র-এর জন্মস্থান প্রদক্ষিণ, ঋত্বিক পরিষদ সভা, যুব সম্মেলন, ঋত্বিক সম্মেলন, কিশোরমেলা, মাতৃ সম্মেলন, কর্মী সম্মেলন, আন্দোবাজারে মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং রাতে লোকরঞ্জন অনুষ্ঠান।
সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও প্রতি ঋত্বিক তাপস চন্দ্র বর্মণ জানান, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনদিনের পুণ্য দোল-পূর্ণিমা উৎসবে দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ওপার বাংলা থেকে লাখো ভক্তের আগমন ঘটেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
১০৪ বার পড়া হয়েছে