রাজশাহীতে পদ্মার পাড়ে তরুণ-তরুণী জিম্মি: টাকা দাবি, মোবাইল ছিনতাই
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ ৪:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহী নগরীতে পদ্মা নদীর পাড়ে ঘুরতে গিয়ে এক তরুণ-তরুণী সংঘবদ্ধ একটি চক্রের হাতে জিম্মির শিকার হয়েছেন।
‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগ তুলে তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে নগরের হারুপুর এলাকায় রাজশাহী হাইটেক পার্কের পেছনে পদ্মা নদীর আইবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন যুবক তাঁদের পাশের ফুটবল মাঠের ওয়াকওয়ে থেকে জোর করে শ্মশানঘাটের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে মেয়েটির কাছে ৫০ হাজার এবং ছেলেটির কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানি করা হয়। একপর্যায়ে ছেলেটির মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ছেলেটি দৌড়ে আইবাঁধ এলাকায় উঠতে পারলেও মেয়েটিকে জিম্মি করে রাখা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মচারী মামুন বিল্লাহ জানান, তিনি তাঁর পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। হট্টগোল শুনে এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে পারেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। তিনি ও কয়েকজন মিলে তরুণীকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁকে বুলনপুর এলাকার দিকে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বুলনপুর এলাকায় নদীর ধারে তরুণীকে উদ্ধার করে।
এ সময় তরুণ দন্তচিকিৎসক তবারক রহমানও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, তরুণ-তরুণীকে থানায় নেওয়ার পক্ষে কথা বললে চক্রের সদস্যরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁর দাবি, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র। নদীর পাড়ে কোনো ছেলে-মেয়ে দেখলেই তারা টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা ও মোবাইল হাতিয়ে নেয়। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের গায়ে একই ধরনের জার্সি ছিল এবং একজনের জার্সিতে ‘তুহিন’ নাম লেখা ছিল।
এদিকে দুই দিন পেরিয়ে গেলেও ছিনতাই হওয়া ফোন ও মানিব্যাগ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।
কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি ফরহাদ আলী বলেন, ঘটনাস্থল অন্য থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজপাড়া থানার ওসি আবদুল মালেক জানান, ভুক্তভোগী তরুণ একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছিনতাই হওয়া মুঠোফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে