নিরপরাধ গৃহবধূর কারাবাস, পুলিশের ওপর আদালতের অসন্তোষ
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ ৪:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় একটি এনজিওর দায়ের করা মামলায় নিরপরাধ এক গৃহবধূকে কারাবরণ করতে হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা বরগুনা-র বেতাগী উপজেলা-র হোসনাবাদ ইউনিয়ন-এ চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা গেছে, এনজিও আরডিএফ (RDF)-এর দায়ের করা এক মামলার মূল আসামি ছিলেন ধনমানিক চত্রা গ্রামের মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের স্ত্রী মোসা. রেহেনা বেগম। তবে নামের মিল থাকায় পুলিশ ভুলবশত একই গ্রামের খলিল খানের স্ত্রী রেহেনা বেগমকে প্রকৃত আসামি মনে করে গ্রেপ্তার করে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
নিরপরাধ রেহেনা বেগমের পরিবার ১ মার্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে স্পষ্ট হয় যে, গ্রেপ্তার হওয়া নারী মামলার প্রকৃত আসামি নন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত খলিল খানের স্ত্রী রেহেনা বেগমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে জামিন মঞ্জুর করেন।
এ ঘটনায় তদন্তে গাফিলতি ও ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কেন এই ভুল হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না কেন—তা জানতে চেয়ে পুলিশকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন আদালত।
বরগুনা জজ কোর্ট-এর আইনজীবী নারগীস পারভীন (সুরমা) জানান, বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রেপ্তারের কারণেই একজন নিরপরাধ নারীকে কারাভোগ করতে হয়েছে।
রেহেনার ছোট ছেলে মো. রিপন খান অভিযোগ করে বলেন, বারবার পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমার মায়ের অপরাধ কী? বিনা দোষে রমজান মাসে কেন তাকে দুই দিন হাজতে থাকতে হলো?’
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক মো. পিয়ারা বেগম বলেন, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা এবং পুলিশের চরম গাফিলতির বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, শুধুমাত্র নামের মিলের কারণে একজন নিরপরাধ মানুষকে জেলে যেতে হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে গ্রেপ্তারের আগে যাচাই করলে এ ধরনের ভুল এড়ানো যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার এবং দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হয়রানি আর না ঘটে।
এনজিও আরডিএফ-এর বেতাগী শাখা ব্যবস্থাপক মো. ফারুক হোসেন বলেন, শুরুতে ভুল রেহেনাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। পরে পরিবারের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে তারা সহযোগিতার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, তথ্য বিভ্রাটের কারণেই এ সমস্যা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ভুলের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার না হন, সেটিই তাদের কাম্য।
১০৯ বার পড়া হয়েছে