ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনি হত্যা: খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার
রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ ৬:৪৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়ায় চাঞ্চল্যকর দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ জানান, নিহত সুফিয়া বেগম সম্পর্কে গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল ইসলাম (৩০) তার আপন খালা। নিয়মিত যাতায়াতের সুবাদে সুফিয়া বেগমের নাতনি জামিলা ওরফে সেতুর প্রতি শরিফুলের কু-দৃষ্টি পড়ে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে শরিফুল সেখানে যায়। তাকে চলে যেতে বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া বেগমকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ঘরে ঢুকে নাতনি জামিলা ওরফে সেতুর ওপর নির্যাতনের চেষ্টা করে। এসময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে তাকে বাঁশের খাঁটি ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়।
পরবর্তীতে সেতুকে টেনে পাশের গমক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করে শরিফুল—এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠান থেকে সুফিয়া বেগমের মরদেহ এবং পাশের গমক্ষেত থেকে নাতনি জামিলা ওরফে সেতুর মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর ডিবি পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ভবানীপুর উত্তরপাড়ার নুরুল মন্ডলের ছেলে রাব্বি মন্ডল ও একই এলাকার মফেজ্জল হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলামকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানায় পুলিশ।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দুপুরে হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে দাদি-নাতনি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আটক অপর ব্যক্তি রাব্বি মন্ডলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে নিহত সুফিয়া বেগমের মেয়ে মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঈশ্বরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছিল।
১০২ বার পড়া হয়েছে