মোহনগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম অভিযোগে মানববন্ধন
রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ ৬:১১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের গুরুত্বপূর্ণ গাগলাজুর-তেঁতুলিয়া আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারাধীন এ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা।
রবিবার (১ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে মোহনগঞ্জের গাগলাজুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কের ওপর মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তেঁতুলিয়া ও গাগলাজুর ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কৃষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা দ্রুত মানসম্মতভাবে সড়ক নির্মাণ শেষ করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত সড়কটি দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালে ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ডিঙ্গাপোতা হাওরের ধান দেশের খাদ্য চাহিদার বড় অংশ জোগান দিলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকদের উৎপাদিত ধান কম দামে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জনগণের করের টাকায় নির্মাণকাজ হলেও সেখানে অনিয়ম চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ছাত্রদল ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, দুই বছর ধরে সড়কটি এমন অবস্থায় পড়ে আছে। এলজিইডির সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ধীরগতিই নয়, কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ সঠিক নয়। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, ঠিকাদার প্রকাশ্যে কাজ করতে পারছেন না, তবে অন্য লোক দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নির্বাচনের সময় শ্রমিকরা চলে যাওয়ার পর এখনো তারা কাজে ফেরেননি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে কার্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দ্রুত কাজের গুণগত মান যাচাই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
১২৪ বার পড়া হয়েছে