সুজানগরে জমি বিরোধের জেরে কৃষকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য
বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পাবনার সুজানগর উপজেলার আমিনপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আহত হওয়ার পর ২৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে কৃষক লোকমান সরদার (৭০) মৃত্যুবরণ করেছেন।
গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ/পিজি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত লোকমান সরদার আমিনপুর থানাধীন সাগরকান্দি ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত নাছির উদ্দিন সরদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপুর গ্রামের হোগলাডাঙ্গি চরে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১২ বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, কোরবান সরদারের আপন চাচাতো ভাই সরহাব গং ও খলিল গং জোরপূর্বক জমিটি দখলে নেন। এতে কোরবান সরদার তার প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হন।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সরহাব গং ও খলিল গং পক্ষ গড়িমসি করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৪ জানুয়ারি কোরবান আলী সরদারের ছেলেরা ওই জমিতে ফসল বপন করতে গেলে সরহাবের ভাই লোকমান সরদারের ছেলেরা ও খলিল গং তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে লাঠিসোটা নিয়ে কোরবান আলীর ছেলেদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে কোরবান আলীর ছেলেদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
কোরবান আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম জানান, “স্থানীয়রা আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দিলে আমরা চলে যাই। পরে লোকমানের ছেলেরা আমাদের বাড়িতে এসে ভাঙচুর চালায়। আমরা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে, তবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, বাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা করতে চাইলেও স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাস দেওয়ায় তারা মামলা করেননি।
শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার কিছুদিন পর জানতে পারেন তার চাচা লোকমান সরদার বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এ স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর একদিন পর ঢাকায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে এনে দাফন করা হয়।
কোরবান আলীর বড় ছেলে রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, “এই ঘটনার সঙ্গে আমরা কোনোভাবেই জড়িত নই। আমাদের মিথ্যা ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের প্রাপ্য জমির ভাগ থেকে বঞ্চিত করার জন্যই আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যিনি মারা গেছেন তিনি আমার চাচা। তিনি আগেও দুইবার হৃদযন্ত্রে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২৬ জানুয়ারি আমিনপুর থানায় আমাদের ৯ জনকে অভিযুক্ত করে যে মামলা করা হয়েছে, সেখানে উল্লেখ আছে যে লোকমান সরদার হৃদরোগী ছিলেন।”
আমিনপুর থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মারামারির মামলা হয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে লোকমান সরদারের মৃত্যু ঘিরে গোবিন্দপুর গ্রামে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে