বাবা-ছেলেকে কোপানোর মামলায় পদক্ষেপ নেই পুলিশের
বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
বরং আসামিদের অব্যাহত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার। দ্রুত বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার দুপুরে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে মিঠাখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল গোলদারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় বাবা ও ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই সঙ্গে হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলেও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার থানায় মামলা দায়ের করে। তবে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রধান আসামি সাইফুল গোলদার দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং আগের মতোই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার হাতে অতীতে বহু নিরীহ নারী-পুরুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েকশ মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল গোলদারসহ সব আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া সাইফুল গোলদারকে দল থেকে বহিষ্কারেরও দাবি তোলেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইফুল গোলদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই সাইফুল গোলদার ও তার সহযোগীরা মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে পরিবারটি চরম আতঙ্কে রয়েছে এবং ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছে। যেকোনো সময় পুনরায় হামলার আশঙ্কা করছেন তারা।
মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, “গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মিঠাখালী এলাকায় মারামারির ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। যত দ্রুত সম্ভব তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।”
১৫৯ বার পড়া হয়েছে