তালতলীর ৯ খালের পুনঃখনন: কৃষকদের ভাগ্য বদলের প্রত্যাশা
বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:৪২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯টি খালের ১৯ কিলোমিটার পুনঃখননের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট দূর হয়েছে।
এতে প্রান্তিক কৃষকরা নতুন করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন। খালগুলো পুনঃখননের ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও সংরক্ষিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নলবুনিয়া, চিলু মাঝি, সুন্দরিয়া, তাতীপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া সহ ৯টি খাল পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা বছরে কেবল একটি ফসল উৎপাদন করতেন। বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা থাকায় ফসল নষ্ট হতো। পাশাপাশি রাস্তার দূরত্বের কারণে কৃষি পণ্য বাজারে পৌঁছে দিতে কাঠখোর ভোগ করতে হতো।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় নলবুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে এই খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এতে কৃষকের ফসলি জমিতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে এবং নতুন রাস্তা তৈরি হয়েছে।
নলবুনিয়া এলাকার কৃষক জালাল মিয়া বলেন, “কিছুদিন আগেও এই খালগুলো ডোবা-নালার মতো ছিল, যেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা হতো। এতে মশা ও মাছির জন্ম হতো, মেলারিয়া, ডেঙ্গুসহ নানা রোগ হতো। দুর্গন্ধের কারণে আশপাশ দিয়ে হাঁটাও সম্ভব হত না। এখন খাল খননের ফলে এলাকাবাসী অনেক উপকৃত হবে।”
তাঁতিপাড়া গ্রামের জুয়েল জোমাদ্দার বলেন, “সাধারণ কৃষক হিসেবে আমরা বর্ষার সময় কেবল একবার ধান চাষ করতাম। এখন খাল খননের ফলে একাধিক ধান চাষসহ নানা ফসল ফলানো সম্ভব হবে। এর ফলে বেকারত্ব কমবে এবং আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারব। সরকারের উচিত এই ধরনের খাল খনন প্রকল্প অব্যাহত রাখা।”
নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, “নলবুনিয়া সমবায় সমিতির মাধ্যমে খালগুলো পুনঃখনন হওয়ায় কৃষিতে বিপ্লবী পরিবর্তন আসবে। এক ফসলি জমি ২ থেকে ৩ ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে এবং বেকারত্ব দূর হবে।”
তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, “প্রকল্প অনুযায়ী খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এটি কৃষি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও সরকার নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের প্রকল্প অব্যাহত থাকবে।”
তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস বলেন, “আগে পানির অভাব এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হতো। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকরা এক ফসলি জমিতে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করতে পারছেন। এতে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।”
এই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ফলে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষকরা পানির সহজ সরবরাহ ও বন্যার সময় ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি জীবিকায় নতুন সম্ভাবনা দেখছেন।
১১৪ বার পড়া হয়েছে