মুক্তারপুর-পঞ্চবটি দ্বিতল সড়ক: বছর শেষে চালুর লক্ষ্য
বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের নিরবচ্ছিন্ন ও আধুনিক সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে নির্মাণাধীন মুক্তারপুর–পঞ্চবটি দ্বিতল সড়ক ও সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে নতুন মাত্রা; কমবে যানজট ও দীর্ঘদিনের জনভোগান্তি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে সার্বিক অগ্রগতি ৮২ শতাংশ। চলতি বছরের শেষ নাগাদ পুরো কাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ–এর অধীনে প্রায় ৩ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত তিন শিফটে বিরতিহীনভাবে নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। একদিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা দ্বিতল সড়কের পিলার ও স্প্যান বসানোর কাজ এগোচ্ছে, অন্যদিকে নিচের বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণও সমানতালে চালানো হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় মোট ১০ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা দ্বিতল সড়ক। যানজট নিরসনে পঞ্চবটি মোড় থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও চাষাড়ার দিকে ৩১০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি ৬ লেনের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে ৪৪৩ মিটার সড়ককে ৪ লেনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া প্রকল্পে থাকছে টোল প্লাজা, গোলচত্বর, সংযোগ সড়ক, ওজন পরিমাপক কেন্দ্র ও র্যাম্প।
মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শহীদ-ই-হাসান তুহিন বলেন, দ্বিতল সড়ক চালু হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, বরং মুন্সীগঞ্জের কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্য দ্রুত রাজধানীতে সরবরাহ সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঢাকা মেট্রো সংযোগ পরিষদের আহ্বায়ক মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, এ সড়ক চালু হলে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক সুফল মিলবে। নিয়মিত যাতায়াতকারীরা দ্রুত ও নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যারা ঢাকায় লেখাপড়া করেন, তাদের ছাত্রাবাসে থাকা নিয়ে ভোগান্তি কমবে এবং সহজেই বাড়ি-ঢাকা যাতায়াত করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক এই দ্বিতল সড়ক চালু হলে ঢাকার প্রবেশমুখে, বিশেষ করে ফতুল্লা ও পঞ্চবটি এলাকায় তীব্র যানজট থেকে মুক্তি মিলবে মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জবাসীর। এতে যাতায়াতের সময় অর্ধেকেরও বেশি কমে আসবে।
প্রকল্প পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৮১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে—অর্থাৎ চলতি বছরের শেষ নাগাদ—সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান, নিচের প্রশস্ত সড়ক দিয়ে আগের মতোই টোলমুক্তভাবে যান চলাচল করতে পারবে। তবে যারা যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে উপরের দ্বিতল সড়ক বা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করবেন, তাদের নির্ধারিত হারে টোল পরিশোধ করতে হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
১৫৭ বার পড়া হয়েছে