জয়পুরহাটে নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে নতুন সেতু ভেঙে পুনঃনির্মাণ শুরু
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জয়পুরহাটে সদ্য নির্মাণ করা সেতুর গাইড ও ড্রপ ওয়াল ধ্বসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় সেতুটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
উত্তর জয়পুর মৌজার চিরি নদীতে ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সালের জুন মাসে সেতুটি নির্মাণ করে জয়পুরহাট বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)।
নক্সা মেনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সেতুটি নির্মাণ করলেও কাজটি নি¤œমানের হওয়ায় নির্মাণের তিন মাস পর সেতুটির অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে দেবে যায়।
বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের মাধ্যমে জেলার সেচ সম্প্রসারণে জয়পুরহাট সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর মৌজায় চিরি নদীতে ৬৫ ফুট দীর্ঘ সাবমারজেড ওয়্যার এন্ড ফুটওভার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় জয়পুরহাট বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)।
সেতুটি নির্মাণের ফলে শুধু সেচ সুবিধা নয়, উত্তর জয়পুর ও চকশ্যাম গ্রাম সহ আশপাশের অন্তত দশ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন সাধিত হয়।
৭২ লাখ ৮৩ হাজার ৪৩৯ টাকা বরাদ্দের ওই প্রকল্পটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় রাজশাহীর রফিক এন্ড মিম ব্রাদার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ। চার মাসের মধ্যে কাজটির নির্মাণ কাজ শেষ করে ৭ জুন কাজটি বুঝে নেয় বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ।
কাজ চলাকালেই ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৪২ টাকা রানিং বিলও পরিশোধ করা হয়।
কিন্তু কাজটি বুঝে নেওয়ার তিন মাস পরই গাইড ও ড্রপ ওয়াল ধ্বসে পুরো সেতু দেবে যায়। ফলে সেই থেকে চরম ঝুঁকি নিয়েই ওই সেতু দিয়ে চলাচল করছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুরো অনিয়ম করে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কারণেই সেতুটির গাইড ও ড্রপ ওয়াল ধ্বসে পাটাতন দেবে গেছে।
বর্ষা হলে পাটাতন পানিতে ডুবে থাকে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে দিনের পরিবর্তে রাতে সেতুর কাজ করা হয়েছে। বাধা দিয়েও কোন কাজ হয়নি। তবে সেতুটি দেবে যাওয়ার পর টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের।
এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিকাদারের ফাইনাল বিল তারা আটকে দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু পুনঃনির্মাণের নির্দেশ দেন।
এ অবস্থায় সেতুটি ভেঙ্গে পাইলিংয়ের জন্য নতুন করে পিলার তৈরির কাজ চলছে।
উত্তর জয়পুর গ্রামের হাসান কবির বলেন, ‘নজরদারি না থাকায় যাচ্ছে তাই ভাবে সেতুটি নির্মাণ করায় পাটাতন ও ড্রপ ওয়াল ধ্বসে গেছে। বারবার অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি।’
একই গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নদীর তলদেশে ইট বিছিয়ে ড্রপ ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। পানির প্রবল চাপে সম্পূর্ণ ইট ভেসে গেছে। ফলে নদীর পানি ধরে রাখার উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। পুরো কাজ ঠিকাদার ইচ্ছেমত করেছে।
ঠিকাদার আতাউর রহমান বলেন, ‘সেতু নির্মাণের জায়গাটিতে প্রচুর বালু ছিল। নক্সা মোতাবেক কাজ করা হলেও অতিরিক্ত বালির কারণে ঢালাই অংশ ক্র্যাক হয়ে সেতুটি দেবে গেছে। এখন পুরাতন সেতু ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ কাজ চলছে।’
বিএমডিএ জয়পুরহাট অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে সেতুটির নির্মাণ কাজের চুড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি ভেঙ্গে পুনঃনির্মাণ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার কাজও শুরু করেছেন। আমরা সার্বক্ষণিক দেখভাল করছি যাতে এবার কাজে কোন ত্রুটি না হয়।’
১২০ বার পড়া হয়েছে