সুন্দরবনে বনদস্যুদের পুনরুত্থান: জেলে অপহরণে আতঙ্ক
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুন্দরবনে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন বনদস্যু বাহিনী। একের পর এক জেলেকে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাছ ছিনতাই ও মারধরের ঘটনায় বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অপহৃত জেলেদের অনেকেই মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলেও এখনও অনেকে দস্যুদের কবলে আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সুন্দরবনে নতুন করে দস্যু তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে দুবলার চর এলাকায় দস্যুদের আনাগোনা ও অপহরণ ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ বেশি দেখা দিয়েছে। মুক্তিপণ দাবিতে জেলেদের অপহরণ, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা আদায় এবং মাছ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দস্যু দমনে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মোংলা সদর দপ্তর থেকে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় যৌথবাহিনী। বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত এ বাহিনী স্পিডবোটে করে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দস্যুদের সম্ভাব্য আস্তানা শনাক্ত করে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো দস্যুকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া উইং জানিয়েছে, সুন্দরবনের বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। দস্যুদের সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে মোংলার জয়মনিঘোল এলাকার জেলে লিটন গাজী বলেন, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সুন্দরবনের গভীর এলাকা থেকে ২৮ জন জেলেকে অপহরণ করেছে দস্যুরা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলেও এখনও অনেকেই আটক রয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সুন্দরবনে দস্যু তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, র্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং ইতোমধ্যে দস্যুতা দমনে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে সাগরে যেতে পারছেন না। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজন হলে বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করা হবে।
১৬৮ বার পড়া হয়েছে