নির্বাচনের পর সহিংসতা: অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবি আখতারের
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ এলাকায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা ও তার সমর্থকদের দায়ী করে তাদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
রোববার বিকেলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এনসিপি নেতা সুমনের বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার নেতৃত্বে “নারকীয় তাণ্ডব” চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা দুটি মোটরসাইকেলসহ বাড়ির বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, হারাগাছ এলাকায় এনসিপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে এবং তাদের হত্যা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি মনির, নোমান, বাবুল, রাসেল, রুজু ও মোয়াজ্জেমসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তারা হামলায় জড়িত।
এর আগে ঢাকা থেকে সরাসরি হারাগাছে গিয়ে তিনি এনসিপির দলীয় কার্যালয় ও জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব সুমনের বাড়ি পরিদর্শন করেন। সুমনের বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার কয়েকশ সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত এনসিপি নেতা সুমনের স্ত্রী আফরোজা আখতার মেরী অভিযোগ করেন, তারা নির্বাচনে এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এ কারণে বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পরাজিত হয়ে তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পরদিন শুক্রবার কয়েকশ সন্ত্রাসী তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা নগদ ২ লাখ টাকা, ৪ ভরি সোনার গহনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, হামলার খবর পেয়ে প্রাণভয়ে তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। নির্বাচনের পরদিন থেকে টানা ১০ দিন ধরে তিনি, তার স্বামী সুমন, বাবা-মা ও স্বজনরা বাড়ির বাইরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সুমনকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দোষীদের গ্রেফতার করে বিচার দাবি করেন আফরোজা আখতার মেরী।
সুমনের মা শেফালী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়েছে। এখন তার ছেলে সুমনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি ছেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই অভিযোগ করেন সুমনের বোন, ভাই ও অন্যান্য স্বজনরা। তারা প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে থাকা বা ভোট দেওয়া কি অপরাধ? তাদের দাবি, বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা যে তাণ্ডব চালিয়েছে, সে বিষয়ে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না; বরং অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে।
এদিকে আখতার হোসেন এমপির হারাগাছে আগমনকে কেন্দ্র করে রোববার স্থানীয় বিএনপি সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয়। পরে হরতাল প্রত্যাহার করে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও তার আগমনের পর বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীকে এলাকায় দেখা যায়নি।
সম্ভাব্য গোলযোগের আশঙ্কায় এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
হারাগাছ থানার ওসি অশোক চৌহান বলেন, বিএনপি তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে। আখতার হোসেন এমপির নিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে