গোমতী নদীতে এক ইঞ্চি মাটিও কাটতে দেয়া হবে না: কৃষিমন্ত্রী
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কৃষিজমিতে হেভি মেটালের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসিন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউস-এ তিন মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন অপরিহার্য। কিন্তু শিল্পবর্জ্য, অপরিকল্পিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণের কারণে কৃষিজমিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ছে। এতে মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, উৎপাদনশীলতা কমছে এবং দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাটি পরীক্ষার কার্যক্রম জোরদার, কৃষি গবেষণা সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে উৎসাহ প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাটি, পানি ও পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় গোমতী নদী-এর চর ও তীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, গোমতী নদী রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এখন থেকে এক ইঞ্চি মাটিও কাটতে দেওয়া হবে না। নদীর তীর ও চর থেকে মাটি অপসারণের ফলে স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, ভাঙন বাড়ছে এবং আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
সভায় জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, মৎস্য অধিদপ্তর-এর মহাপরিচালক মো: আব্দুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর-এর মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, পরিচালক শামসুল আলম, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তর-এর পরিচালক এস এম কায়সার আলীসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
১২৯ বার পড়া হয়েছে