রাজশাহী নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৭ মাস বেতন বকেয়া
বৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ১২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা সাত মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় কর্মীরা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সূত্র জানায়, আগে তারা পূর্ণ বেতন পেতেন। তবে সাত মাস আগে সংস্থা দুটি হঠাৎ বেতন অর্ধেক করে দেয়। এরপরও বেতন এখনও হাতে আসেনি।
এই কেন্দ্রগুলো দুটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা আহছানিয়া মিশন নগরের কাশিয়াডাঙ্গা ও সপুরায় চারটি এবং টুলটুলিপাড়া ও কাদিরগঞ্জে একটি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মাতৃসদন পরিচালনা করছে। অন্য ছয়টি কেন্দ্র পরিচালনা করছে নারী মৈত্রী সংস্থা। এগুলো পঞ্চবটি, কাজলা, ডাঁশমারী, বুধপাড়া, মেহেরচণ্ডি ও টিকাপাড়া এলাকায় অবস্থিত।
সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নারী মৈত্রীর অধীনে ৬টি কেন্দ্রের ১৪৪ জন কর্মী রয়েছেন। ঢাকা আহছানিয়া মিশনের অধীনে ১০০ জন কর্মী কাজ করছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সংস্থা দুটি কেন্দ্রগুলো পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রাপ্ত সার্ভিস চার্জ, সরকারি অনুদান ও সিটি করপোরেশনের অর্থ থেকে কর্মীদের বেতন দেওয়া হয়।
কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে অ্যাডমিন ২২ হাজার, পিয়ন, আয়া ও নৈশপ্রহরী ১৬ হাজার, মাঠকর্মী ও ফ্যামিলি প্ল্যানিং কর্মী ১৯ হাজার, প্যারামেডিক, ল্যাব সহকারী ও কাউন্সিলর ২৭ হাজার, চিকিৎসক ৪৮ হাজার টাকা বেতন পেতেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে হঠাৎ বেতন অর্ধেক করা হয়। নতুন বেতন অনুযায়ী, অ্যাডমিন ১৩,৪০০, পিয়ন ও নৈশপ্রহরী ১৩,০০০ এবং প্যারামেডিক, ল্যাব সহকারী ও কাউন্সিলর ১৩,০০০ টাকা পাচ্ছেন। তবে সাত মাস ধরে কেউ বেতন পাননি।
মেহেরচণ্ডি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অ্যাডমিন নীল মাধব সাহা বলেন, “নারী মৈত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর হঠাৎ বেতন অর্ধেক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পেয়ে জীবনযাপন কঠিন হয়ে গেছে।”
ডাঁশমারীর নৈশপ্রহরী তানু মিয়া বলেন, “২০০৫ সাল থেকে চাকরি করছি। আগে বেতন নিয়মিত বেড়ে আসত। গত বছর হঠাৎ ৯ হাজার টাকা করা হলো, সেটিও পাইনি। দোকানে বাকি টাকা, বাড়িভাড়া দেওয়া যাচ্ছে না। খুব কষ্ট হচ্ছে।”
কর্মীরা জানিয়েছেন, বেতন অর্ধেক করার পর তারা প্রতিবাদ করলে এনজিও কর্তারা জানিয়েছিলেন, এই বেতনেই কাজ করতে হবে, না হলে চাকরি ছাড়তে হবে। এতে অনেকেই সন্তানদের পড়াশোনার খরচও যোগাতে পারছেন না।
নারী মৈত্রীর স্থানীয় প্রকল্প ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান মোড়ল বলেন, “পরিস্থিতি বিবেচনায় সবাইকে অর্ধেক বেতন দেওয়া হয়েছে। আমরা নিজেরাও অর্ধেক বেতনেই কাজ করছি। প্রসেস চলছে, দু’একদিনের মধ্যে তিন মাসের বেতন দেওয়া হবে। বাকি বেতন ধীরে ধীরে দেওয়া হবে।”
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, “আমরা দুটি এনজিওকে ৩০ লাখ টাকার চেক দিয়েছি। দু’একদিনের মধ্যে তারা কর্মীদের তিন মাসের বেতন দিতে পারবে।”
১২০ বার পড়া হয়েছে