রোজার আগেই বাজারে অস্থিরতা, বেগুন ১৫০, লেবু ১০০
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রমজানকে ঘিরে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজার। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা শহরগুলোতেও বেড়েছে শাকসবজি, ফল ও মুরগির দাম।
বিশেষ করে বেগুন, লেবু ও কলার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল ঘুরে দেখা গেছে, শসা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, যা দুই দিন আগেও ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বেগুনের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। গোল বেগুন ১০০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই বেগুনের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
কাঁচামরিচের কেজি ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা পেঁপে ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং উচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি। বাজারে লেবুর সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দাম কমেনি; মাঝারি আকারের লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, রমজান এলেই কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ান। হাতিরপুল বাজারের এক ক্রেতা বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বেগুন ও লেবুর দামে ‘ডাকাতি’ চলছে।
মুরগির বাজারও চড়া। দুই মাস আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৫০ টাকার কিছু বেশি। বর্তমানে তা বেড়ে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি জাতের মুরগির কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাবেই খুচরা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
এদিকে গত কয়েক দিনে কলার সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলা কলার ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সবরি কলা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং বরইয়ের কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, রমজান উপলক্ষে ভোক্তাদের অতিরিক্ত চাহিদা এবং কিছু পণ্যের সরবরাহ ঘাটতির কারণে দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ভোক্তা সংগঠনের নেতারা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন।
রাজধানীর বাইরে বগুড়া, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, নওগাঁ ও ময়মনসিংহেও একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও কেজিতে ৭ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। কিশোরগঞ্জে লেবুর দাম তিন গুণ এবং বেগুনের দাম আড়াই গুণ বেড়েছে। সিলেটে ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতির কথাও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রমজান শুরুর আগেই বাজার স্থিতিশীল না হলে ভোক্তাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১২০ বার পড়া হয়েছে