গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজে বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব: রঙিন আনন্দে ভরা এক দিন
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজে বসন্তের আগমনে জমজমাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ‘বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব’।
ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগত জানানোর সঙ্গে সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখার এ আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে সংস্কৃতির পাঠও হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ্ মোঃ ইকবাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শাহ আলম।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল কলেজের ক্যাম্পাসে সাজানো ১৪টি স্টল, যেখানে প্রায় ৫০ প্রকারের পিঠা ভোজনরসিকদের জন্য পরিবেশিত হয়। ভাপা পিঠা, চিতই, পাটিসাপটা-সবই যেন শৈশবের স্মৃতির দরজা খুলে দেয়। কলেজ ক্যাম্পাস রূপ পেয়েছে বসন্তের রঙে; মেয়েরা বাসন্তী শাড়ি আর মাথায় ফুলের টায়রা, আর ছেলেরা হলুদ পাঞ্জাবিতে স্টলে স্টলে ঘুরে আনন্দ ছড়িয়ে দেন।
উৎসবের মেজাজ আরও রঙিন করতে রাখা হয়েছিল অন্তত ১০টি সেলফি স্পট। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক-সবাই মিলে বাঙালির প্রাণের ঋতু বসন্তকে উদযাপন করেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়, যা নবীনবরণকে উৎসবের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়। আলাচনাসভায় নবীনবরণ কমিটির আহবায়ক মনিরুজ্জামান শেখ, একাদশ শ্রেণির তত্ত্ববধায়ক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষার্থী সোহানা আল ইমাম ও মাহিমা বক্তব্য রাখেন। বিকেলে সেরা স্টল ও সেরা পিঠা প্রস্তুতকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
ছাত্রছাত্রী অন্তরা রায় জ্যোতি বলেন, 'প্রথমবারের মতো কলেজে এমন আয়োজন হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পিঠা খেয়ে খুব ভালো লাগছে। বাড়িতে এত পিঠা হয় না।'
শিক্ষার্থী সোহানা আল ইমাম যোগ করেন, 'এত প্রকারের পিঠা আগে কখনো দেখিনি। এখানে ৫০ রকম পিঠা রয়েছে। সত্যিই আনন্দের!'
শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাকিবুল ইসলাম বলেন, 'শহরের যান্ত্রিক জীবনে বাঙালির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে বিলীন হতে বসেছে। এই আয়োজন তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাবে।'
অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ্ মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, 'বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করে তোলে। প্রতিবছরই এমন আয়োজন থাকবে।'
উৎসব কেবল আনন্দের মেলাবার আয়োজনই নয়, বরং শিক্ষক-ছাত্রদের প্রাণের মিলনমেলারও এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল।
১০৬ বার পড়া হয়েছে