মানিকগঞ্জ-৩ আসনে প্রথম নারী এমপি ও মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:০০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য এবং একই সঙ্গে মন্ত্রী হওয়ায় উচ্ছ্বাসে ভাসছে দলীয় নেতাকর্মীসহ জেলাবাসী।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটভুক্ত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ সাঈদ নূর পান ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট।
বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে আফরোজা খানম রিতা স্বাধীনতার ৫৫ বছরে এই আসন থেকে নির্বাচিত একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েন। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।
জেলার প্রথম সারির নারী নেত্রী হিসেবে পরিচিত আফরোজা খানম রিতা দীর্ঘদিন নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নিজেকে জনগণের আস্থাভাজন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার বাবা প্রয়াত শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নু মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মূলত বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু।
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবার প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তীতে জেলা ও রাজধানীতে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আসেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
২০১০ সালে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২১ সালে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তাকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন আফরোজা খানম রিতা। দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার খরচ বহনসহ তাদের পরিবারকে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে হওয়া প্রশাসনিক হয়রানির প্রেক্ষাপটে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মুখেও তিনি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি।
দলীয় নেতাদের দাবি, তার নেতৃত্বেই জেলায় বিএনপি ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং সংগঠন নতুন গতি পেয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার বলেন, আফরোজা খানম রিতা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হওয়ায় দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ। তিনি বলেন, এ খবরে শুধু নেতাকর্মী নয়, পুরো জেলার মানুষ আনন্দিত। ঢাকার নিকটবর্তী জেলা হয়েও মানিকগঞ্জ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন জেলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জেলাবাসীর প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বে থেকে আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জসহ সারাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
১০৯ বার পড়া হয়েছে