মানুষ হিসাব চায়!
কুমারখালীতে আর পুরোনো খেলা চলবে না
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আবারও কি হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের পুরোনো চক্রে ঢুকবে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ? কোথাও কোথাও যে অশুভ সুর শোনা যাচ্ছে, তা যদি সত্যি হয়— তবে এটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। মানুষ অতীতে অনেক কিছু দেখেছে, সহ্য করেছে। কিন্তু এবার সহ্যের বাঁধ ভাঙলে দায় কার?
দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি—এসবকে যারা অলিখিত নিয়ম বানিয়ে রেখেছিল, তাদের জন্য সময় বদলেছে। দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির অবৈধ ও অনৈতিক কারবারি প্রভাব-প্রতিপত্তির ছায়ায় থেকে এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছিল বংশপরম্পরায়। এ কথা লোকমুখে নতুন নয়। প্রশ্ন হলো - কেন তারা এতদিন পার পেয়ে গেল? প্রশাসন কোথায় ছিল? জনপ্রতিনিধিরা কী করছিলেন?
বংশপরম্পরা! এই শব্দের আড়ালে অনিয়মের রাজত্ব চালানো হয়েছে। এখনো হচ্ছে। যেন ক্ষমতা একধরনের পারিবারিক সম্পত্তি! অথচ কখনোই তাদেরকে অপরাধ করার লাইসেন্স দেয়নি কেউ। তবুও তারা প্রকাশ্যে মানুষের পকেট লুট করে যাচ্ছে ! এখন মানুষ জানতে চায়—কেন এতদিন নীরবতা? কেন এতদিন আপস? মানুষ আর একটা মুহুর্তের জন্যেও এই সিন্ডিকেট দেখতে চায় না।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভোটাররা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— এবার শাসক নয়, সেবক চাই। যারা ভোট পেয়েছেন, তারা ভুলে গেলে চলবে না: এই সমর্থন অন্ধ আনুগত্য নয়; এটি শর্তসাপেক্ষ আস্থা। দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে সেই আস্থা মুহূর্তে-ই ভেঙে পড়বে।
নবনির্বাচিত এমপি- অল্পদিন আগেও সাধারণ মানুষের কাতারেই ছিলেন। এ কথা স্মরণ রাখা জরুরি। ভুক্তভোগীর কষ্ট তিনি নিশ্চয়ই জানেন, তাই এখন আর অজুহাতের সুযোগ নেই। এ অঞ্চলের মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, ব্যবসা- বাণিজ্য— এসব নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি প্রথম কাজ হতে হবে সুশাসনের কঠোর বাস্তবায়ন।
কথা নয়, অ্যাকশন চাই। প্রকাশ্য ঘোষণা চাই— অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি, তদবির-সিন্ডিকেট, রাজনৈতিক ছত্রছায়া সহ সব অনৈতিক কারবার বন্ধ। এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা। কারও পরিচয়, প্রভাব বা অতীত সম্পর্ক যেন ঢাল না হয়।
কুমারখালীর মানুষ পরিষ্কার বুঝে গেছে—ভয়ের রাজনীতি আর চলবে না। নীরব সহনশীলতার যুগ শেষ। এবার হিসাবের সময়।
সত্যিই এবার প্রমাণ দিতে হবে কাজ দিয়ে।
না হলে ইতিহাস সাক্ষী থাকবে— আর একবার প্রতারিত হলো এ অঞ্চলের মানুষ।
১১৯ বার পড়া হয়েছে