বেরোবিতে গোপনে ছাত্রশিবিরের কমিটি গঠন
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৯:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্র শিবিরের নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি গোপনে গঠন করা হয়েছে। পরে ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নতুন কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়।
কমিটিতে ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সুমন সরকারকে সভাপতি এবং একই সেশনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাকিব মুরাদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুজনই বর্তমানে নিয়মিত শিক্ষার্থী নন এবং তাদের একাডেমিক কার্যক্রম অনেক আগেই শেষ হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নতুন কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, বেরোবির সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমাবেশে কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মু. মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদীর সঞ্চালনায় শাখা সভাপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতির স্বাক্ষরিত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে সর্বাধিক ভোট পেয়ে সুমন সরকার সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে কেন্দ্রীয় সভাপতির প্রতিনিধি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম তাকে সাংবিধানিক শপথ পাঠ করান। সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুর রাকিব মুরাদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন দেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রশিবিরের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। এমনকি অধিকাংশ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। ফলে নবঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে নিয়মিত শিক্ষার্থী নন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও শিবির সে ধরনের রাজনীতি করে না। নিয়মিত শিক্ষার্থী না হওয়ার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, তাদের মাস্টার্স সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তারা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স (ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট)-এ এমফিলে ভর্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
তবে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ড. প্রসন্নজিৎ সরকার জানান, সম্প্রতি এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং এখন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলবে। এরপর ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট দুই নেতা আবেদন করেছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
১১৬ বার পড়া হয়েছে