রাষ্ট্রপতি পদে খন্দকার মোশাররফের নাম জোরালো, আলোচনায় নজরুল ইসলাম খানও
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য কয়েকটি নাম ঘুরছে; দলীয় সূত্রে সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পাশাপাশি একই কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান–এর নামও আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে নজরুল ইসলাম খানের নামও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যদিও দলের ভেতরে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। আগামীকাল সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে দলীয় পর্যায়ে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম প্রায় চূড়ান্ত হলেও রাষ্ট্রপতি পদে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন সরকার গঠনের পর পদত্যাগ করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে গেলেও তিনি সরে যেতে আগ্রহী। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসতে পারে—এমন ধারণাই এখন জোরালো হচ্ছে।
৭৯ বছর বয়সী খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা–১ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ১৯৯১, ১৯৯৬ (দুই দফা) ও ২০০১ সালে তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। পেশায় ভূতত্ত্ববিদ এই নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে জ্বালানিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন।
অন্যদিকে নজরুল ইসলাম খান দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে তাঁর।
দলীয় সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই আসতে পারে। মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১০৮ বার পড়া হয়েছে