খুলনার বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বিষাদের ছায়া
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২১২টি আসন নিয়ে সরকার গঠনের পথে এগোয়, আর জামায়াত জোটও ৭৭টি আসন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। তবে খুলনার কট্টরপন্থি বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে মন ভালো নেই।
সমস্যার মূল হলো খুলনা-২ আসনের বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-৫ আসনের জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার তাদের নির্বাচনে পরাজয় বরণ করেছেন। এই পরাজয়কে কেন্দ্র করে খুলনায় চলছে সুনসান নিরবতা এবং দলের ভিতরে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
২০ বছর পর পুনরায় ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে যাচ্ছেন। এ খবর বিএনপি নেতা-কর্মীদের জন্য আনন্দের সংবাদ, বিশেষ করে দীর্ঘ ১৭ বছরের জেল, জুলুম ও নীপিড়নের পর ক্ষমতার দখল পাওয়ার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তবে খুলনার কট্টরপন্থি বিএনপি সমর্থকদের মুখে হাসি নেই।
খুলনা-২ আসনটি বিএনপির জন্য মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং খুলনার ঘাঁটিসম্পন্ন এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই আসনে জনপ্রিয় নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রার্থী করা হয়। একজন দক্ষ সংগঠক ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে নজরুল ইসলামের নেতৃত্বকে বিপক্ষের নেতারাও সমীহ করেন। তবুও তিনি জামায়াত নেতা শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলালের কাছে পরাজয় বরণ করেছেন। এই ফলাফল কট্টরপন্থি বিএনপি কর্মীদের কাছে মেনে নেওয়া কঠিন।
তেমনি, জামায়াতের কট্টরপন্থি সমর্থকরাও সন্তুষ্ট নয়। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জামায়াত প্রধান বিরোধীদলের আসনে বসতে যাচ্ছে। অনেক অখ্যাত নেতা দলের বিভিন্ন স্থানে বিজয়ী হয়েছেন, যার মধ্যে খুলনা-২ আসনের বিজয় অন্যতম চমক হিসেবে ধরা হয়। তবে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ব্যক্তি, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ারকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বিএনপির হেভিওয়েট নেতা আলী আসগার লবির কাছে পরাজয় বরণ করেছেন। এটি কট্টরপন্থি জামায়াত সমর্থকদের জন্য এক বড় ধাক্কা।
ফলস্বরূপ, উভয় দলের কট্টরপন্থি সমর্থকেরা এখন বিষাদ ও হতাশায় নিমজ্জিত। তবে উদারপন্থিরা এই পরিস্থিতি শান্তভাবে মেনে নিয়েছেন।
১৫৭ বার পড়া হয়েছে