গাইবান্ধায় ৫ কেন্দ্রে পুনঃভোট ও সব কেন্দ্রে পুনঃগণনার দাবি রহিম সরকারের
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কেন্দ্র দখল এবং ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগে ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুর রহিম সরকার।
তিনি শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধা জেলা শাখার আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্দিষ্ট পাঁচটি কেন্দ্রে পুনঃভোট গ্রহণ এবং অবশিষ্ট সকল কেন্দ্রে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এ প্রার্থী লিখিত বিবৃতিতে অভিযোগ করেন যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নির্বাচনী এলাকায় নজিরবিহীন অনিয়ম ঘটেছে। নির্বাচনের দিন বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জোরপূর্বক বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রবেশ করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় এবং ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারে।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি কেন্দ্রে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের উল্লেখ করেন। বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২০) কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ৬০ থেকে ৭০ জন বহিরাগত ব্যালট ছিনিয়ে নেয়। কুমিরাডাঙ্গা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৪) কেন্দ্রে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন নেতা-কর্মী জোরপূর্বক প্রবেশ করে জাল ভোট প্রদান করে। গোপালপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৫) কেন্দ্রে ৬৫ থেকে ৭০ জন লোক প্রবেশ করে পোলিং অফিসারদের জিম্মি করে ব্যালট পেপারে সিল মারে। কোচারশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১০৫) কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যাপক হারে জাল ভোট প্রদান করা হয় এবং দামগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৭) কেন্দ্রে শতাধিক বহিরাগত প্রবেশ করে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষে সিল মারে।
ভোট গণনার সময়ও ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন মো. আব্দুর রহিম সরকার। তিনি দাবি করেন, গণনার সময় অনেক কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১২০টি ব্যালটকে ১০০টির বান্ডিল এবং ধানের শীষের ৮০টি ব্যালটকে ১০০টির বান্ডিল হিসেবে গণনা করা হয়েছে। এমনকি ধানের শীষের বান্ডিলে দাঁড়িপাল্লার ভোট ঢুকিয়ে গণনার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। একটি কেন্দ্রে ১,৮০০ ভোটের স্থলে ২,৮০০ ভোট দেখানো হয়েছে, যেখানে তার এজেন্টের স্বাক্ষর নেই।
তিনি আরও বলেন, অনিয়মের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তিনি উল্লেখ করেন যে, এসব অনিয়মের স্থিরচিত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী তাদের কাছে রয়েছে। এমতাবস্থায়, তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি গাইবান্ধা-৪ আসনের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করে উল্লেখিত পাঁচটি কেন্দ্রে পুনঃভোট এবং বাকি কেন্দ্রে ভোট পুনঃগণনা করে সংশোধিত ফলাফল ঘোষণা করার জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত গাইবান্ধা সদর আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনের আবুল কাওসার মো. নজরুল ইসলাম লেবু, সুন্দরগঞ্জ আসনের মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৫ আসনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং জামায়াতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
১২১ বার পড়া হয়েছে