যশোরে জামায়াত প্রাধান্য, শুধুমাত্র যশোর-৩ আসনে বিএনপি জয়ী
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:১৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীরা।
শুধুমাত্র যশোর-৩ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
রিটার্নিং কর্মকর্তার চূড়ান্ত ফলাফলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যশোর-১ (শার্শা) আসনে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আজীজুর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪২ ভোট।
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৭ ভোট। মোট প্রার্থী ছিলেন আটজন।
যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আব্দুল কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট। এখানে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
যশোর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী জেলা আমির গোলাম রসুল ৬৯ হাজার ৮৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফারাজী মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৮৭ ভোট। যশোর-৪ আসনটি যশোর সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন এবং বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলা নিয়ে গঠিত। মোট প্রার্থী ছিলেন আটজন।
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে জামায়াতের গাজী এনামুল হক ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বিদ্রোহী শহীদ মোহম্মদ ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ৮৪ হাজার ২৭৬ ভোট এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিক দলের রশিদ আহমাদ পেয়েছেন ৫০ হাজার ৪১৫ ভোট।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জামায়াতের মোক্তার আলী ৯১ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯৭৯ ভোট।
যশোর জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬, নারী ১২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৭ এবং হিজড়া ২৫ জন।
যশোরের ৬টি আসনে মোট ৩৭ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। স্বতন্ত্রদের মধ্যে দুইজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন—যশোর-২ আসনে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম এবং যশোর-৫ আসনে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মোহম্মদ ইকবাল হোসেন।
জেলার সব আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী থাকলেও অন্যান্য দলের প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এবি পার্টির দুইজন, সিপিবি, বাসদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, গণঅধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস এবং মাইনরিটি পার্টির একজন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে