দিনাজপুর জেলা জুড়ে বিএনপির দাপট
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:০৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর জেলা রূপ নেয় প্রাণবন্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী মঞ্চে।
জেলার অধিকাংশ আসনেই শক্ত অবস্থান তৈরি করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণই এ জয়ের মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ছিলেন তরুণ এবং প্রায় ৪৯ শতাংশ নারী। এই দুই শ্রেণির ভোটার মিলিয়ে গড়ে ওঠে মোট ভোটের প্রায় ৮৫ শতাংশ। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটারদের উল্লেখযোগ্য সমর্থনও বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আসনভিত্তিক ফলাফল
দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল)
১২৯টি কেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ মনজুরুল ইসলাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মতিউর রহমান পান ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৮১ ভোট।
দিনাজপুর-২ (বিরল-ঘোড়াঘাট)
১১৭টি কেন্দ্রে বিএনপির সাদিক রিয়াজ ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের আফজালুল।
দিনাজপুর-৩ (সদর)
১৩১টি কেন্দ্রে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াতের অ্যাডভোকেট মাইনুল আলম ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ ভোট পেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন।
দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা)
১৩০টি কেন্দ্রে আখতারুজ্জামান মিঞা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আফতাব উদ্দিন মোল্লা পান ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ ভোট।
দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর)
এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-জোটের এনসিপি প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদ পান ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট।
দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর)
২০০টি কেন্দ্রে বিএনপির ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতের মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম পান ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট।
বিশ্লেষণ: ভোটারদের নীরব সিদ্ধান্ত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ও নারী ভোটারদের নীতিনির্ভর অবস্থান এবং উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রত্যাশা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন ও কৃষি পুনর্গঠনসংক্রান্ত ঘোষণাগুলো ভোটারদের কাছে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জোরালো প্রচারণা সত্ত্বেও ভোটাররা শেষ পর্যন্ত নিজেদের বিবেচনাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। দিনাজপুরের এই ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে-ভোটাররা এখন আরও সচেতন, যুক্তিনির্ভর এবং অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
১৬২ বার পড়া হয়েছে